১শ একর জমিতে তিন বছর বন্ধ বোরো চাষ

কমলগঞ্জ উপজেলার প্রায় একশ একর জমিতে গত তিন বছর ধরে বোরো চাষাবাদ করতে পারছে না কৃষক। তাদের অভিযোগ, কৃষি কাজের জন্য উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝির গ্রামে লাঘাটা নদীতে একটি স্লুইসগেইট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এ প্রকল্পটি খুবই ধীর গতিতে এগুচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। কিন্তু কবে নাগাদ পুরো স্লুইসগেইটটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না। জানা যায়, বোরো চাষাবাদে সেচ সুবিধার্থে উপজেলার সতিঝির গ্রামে লাঘাটা নদীতে ২০১০ সালে ‘স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প নামে স্লুইসগেইট নির্মাণের ওই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। লাঘাটাছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন) অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সনের ২৬ জুন। ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে আরও কয়েক লাখ টাকা লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান। শুরু থেকেই প্রকল্পটির কার্যক্রমে অনিয়ম ও ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত্ রড নদীতে পুঁতে রাখায় মরিচা ধরে গেছে। এই প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করায় গত তিন বছর যাবত্ এই এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারিভাবে কোন ক্রসবাঁধ হয়নি। ফলে সেচ সুবিধার অভাবে প্রায় শতাধিক একর জমিতে কৃষকরা বোরো চাষাবাদ করতে না পেরে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। কৃষক রেজাউল করিম, ছুফি মিয়া, ফারুক মিয়া, তছদ্দর মিয়া, শেরওয়ান আলী বলেন, শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝির গ্রাম, কেছুলোটি পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামের কৃষকরা যুগ যুগ ধরে বোরো মৌসুমে ক্রসবাঁধের মাধ্যমে সেচ দিয়ে বোরো আবাদ করেন। কিন্তু এই প্রকল্প গ্রহণ করার পর থেকে ক্রসবাঁধ না হওয়ায় বোরো চাষাবাদ সম্ভব হয়নি। ধীরগতিতে স্লুুইসগেইটের কার্যক্রম চলায় এবছরও চাষাবাদ সম্ভব হবে না। এই স্লুুইসগেট নির্মাণের ফলে আশপাশের এলাকার জমির কৃষকদের উপকারে আসলেও নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সেচ সুবিধার অভাবে বোরো আবাদ সম্ভব হবে না। এ নিয়ে নিম্নাঞ্চলের ভূমি মালিক ও কৃষকরা উদ্বিগ। তিন বছর ধরে বোরো চাষাবাদে কৃষকদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে লাঘাটাছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দুরুদ আলী বলেন, এলাকার কৃষকদের নিয়ে একাধিকবার সভা করে আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল স্লুুইসগেইট নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত চাষাবাদে ক্ষতির বিষয়টি কৃষকর মেনে নিবেন। এখন এই অভিযোগ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন বলেন, স্লুুইসগেইটের কাজ যথারীতি হচ্ছে। কোন অনিয়ম বা সমস্যা হয়নি। প্রকল্প কাজের ঠিকাদার আব্দুল করিম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতে কাজ করা যায়নি। শুকনো মৌসুমে কাজ করতে হচ্ছে। তাই একটু সময় লাগছে। তবে আগামী জুন পর্যন্ত সময় আছে, যথা সময়েই কাজ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, গত এক বছর যাবত্ এই স্লুুইসগেটের কাজ চলছে। তবে কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।