পিরোজপুরে এসএসসির উপকেন্দ্রে নিয়ম ভঙ্গ
বিশেষ পরীক্ষার্থীদের সুবিধা দেয়া নিয়ে তোলপাড়
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
আজ রবিবার থেকে সূচিত এসএসসি পরীক্ষায় পিরোজপুর শহরের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন কোন ছাত্রকে অবৈধ সুবিধা দিতে পরীক্ষার ভেন্যু বদলের অভিযোগ উঠেছে। শহরে নতুন স্থাপিত আরেকটি কেন্দ্রে বিদ্যালয়টির পরীক্ষা গ্রহণের বিধি লংঘন করে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বাধীন একটি ভেন্যুতে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থায় এখানে তোলপাড় চলছে। এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছেন, ঘটনাটি অসতর্কতা বা ভুলের ফল হতে পারে। অন্যদিকে উক্ত ভেন্যুর (উপকেন্দ্রে) সহকারী কেন্দ্র সচিব আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, একজন প্রভাবশালী ছেলেসহ শহরের বিশিষ্ট কিছু ব্যক্তির সন্তান ও আত্মীয়রা তার অধীন ভেন্যুতে পরীক্ষার্থী হওয়ায় কিছু চাপ তাকে হয়তো মোকাবিলা করতে হতে পারে। এবারের পরীক্ষায় পিরোজপুর শহরে সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয় ও সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় পৃথক দু’টি কেন্দ্র স্থাপন করে আরও দু’টি ভেন্যুতে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। গত বছর পর্যন্ত একটি কেন্দ্রের অধীনে তিনটি ভেন্যুতে এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হতো। এ বছর ১৩২৪ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে দু’টি কেন্দ্র গঠিত হয়েছে। যথাক্রমে বালক ও বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এর সংখ্যা হচ্ছে ৬২৯ ও ৬৯৫ জন। অথচ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার সরকারী সিরাজুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও একটি ভেন্যুতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১৬ জন। পিরোজপুর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব হচ্ছেন একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। উক্ত বিদ্যালয়ের ১১৮ জন পরীক্ষার্থী নবসৃষ্ট যে করিমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যুতে (উপকেন্দ্র) পরীক্ষা দিচ্ছে তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সচিবের হাতে থাকায় নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। কারণ উক্ত ভেন্যুটিতে কি করে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে তার সদুত্তর স্বয়ং বোর্ড চেয়ারম্যানও দিতে পারেননি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর বিমল কৃষ্ণ মজুমদারকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, সাধারণত এ রকম হওয়ার কথা নয়। হয়তো ভুলক্রমে বা অসতর্কতাবশতঃ ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে শহরে গুঞ্জন আছে পিরোজপুরের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালীর ছেলেকে বিশেষ সুবিধা দিতে এটা করা হয়েছে।
পিরোজপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের উপ-কেন্দ্র বা পুরোনো ভেন্যুর টাউন উচ্চ বিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে এ বছর নতুন ভেন্যু করিমুন্নেছা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার পেছনে ঐ প্রভাবশালীর ছেলেকে বিশেষ সুবিদা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এমনকি উক্ত পরীক্ষার্থীর সিট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের পাশে রাখা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নিতে এবং পরীক্ষার হলের পরিদর্শকও থাকছেন একই স্কুলের শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে সহকারী সচিব ও স্কুল প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, নতুন ভেন্যুতে তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকবেন। তবে তিনি শুনেছেন সরকারী বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখিত ছাত্র শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তান ও আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। কিছু কিছু তদবিরও রয়েছে এদের সুযোগ দিতে। কিন্তু তাদেরকে বিশেষ কোন ছাড় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সচিব হলেও জরুরী প্রয়োজন ছাড়া উক্ত ভেন্যুতে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সাথে সহকারী কেন্দ্র সচিবের যোগযোগ অপরিহার্য নয়। তিনি স্বাধীন ভাবেই কাজ করবেন।
এদিকে কেন্দ্র সচিব শম্পা রানী রায় বলেন, বোর্ডের নির্দেশেই করিমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ভেন্যু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পিরোজপুরের ঐ প্রভাবশালীর ভাষ্য হল, তার ছেলে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেখানে কিছুদিন লেখা-পড়া করে। এর আগে পিরোজপুরে লেখা-পড়া করত। তার এসএসসি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ঢাকা বোর্ডের কম্পিউটারের ভুলের কারণে ব্যাহত হয়। এরপর বরিশাল বোর্ডের অধীনে রেজিষ্ট্রেশন করে পিরোজপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র হিসাবে সে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে। এ নিয়ে কোন সংশয়ের কিছু নেই বা তার জন্য কোন উপকেন্দ্রও স্থাপনের অভিযোগও মিথ্যা। কারণ সে একজন মেধাবী ছাত্র হিসাবে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং অবৈধ সুযোগও নেয়ার ব্যবস্থা বর্তমান সরকারের সময়ের পরীক্ষা পদ্ধতিতে অসম্ভব।