আওয়ামী লীগে দুই নতুন মুখ, মাঠে নেই বিএনপি

আগামী ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তত্পর নতুন দুই মুখ। এরা হলেন: বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ও শিল্পপতি মশিউর রহমান খান। তাদের পাশাপাশি গণসংযোগ করে যাচ্ছেন বিগত নির্বাচনে দলের পরাজিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তবে নির্বাচন ও মনোনয়ন নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ারসহ দলটির অন্য নেতাদের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রিন্টু ও মশিউর মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা প্রকাশ্যেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে নিজেদের জন্য দোয়া চাইছেন। পোস্টার ব্যানার ও তোড়ন তৈরি করে দলের নানা অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অপর দুই প্রার্থীসহ বিএনপি’র বর্তমান এমপি পরিবার নিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। বরিশালের মানুষ কখনোই বিপদে আপদে তাদের কাছে পায় না। আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে সার্বক্ষণিক বরিশালে থাকি এবং মানুষের জন্য, দলের জন্য কাজ করি। মনোনয়ন পেলে আমার বিশ্বাস, বরিশালবাসী আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’ দলের অপর নতুন মুখ মশিউর রহমান খান বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন যাবত্ নিবেদিতভাবে কাজ করছি। কোন কিছু কখনো চাইনি। এবার মনোনয়ন চেয়েছি, আশা করি আমিই মনোনয়ন পাবো।’ তবে ঘরে বসে নেই দলের গতবারের পরাজিত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমও। তিনি দীর্ঘ দিন ঢাকায় থাকলেও এখন বেশির ভাগ সময় থাকছেন নির্বাচনী এলাকায়। গত নির্বাচনে শামীম পেয়েছিলেন ৯৯ হাজার ৩৮৭ ভোট। আর সরোয়ার পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ ভোট। কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে আমি পরাজিত হলেও যত ভোট পেয়েছি তা বিগত দিনে দলের আর কোন প্রার্থী পায়নি। তবে মনোনয়নের বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবেন সভানেত্রী। আর বরিশালের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন তারা সত্ লোক চান নাকি সন্ত্রাসী, মাস্তান ও দুর্নীতিবাজদের চান। তিনি মনোনয়ন পেলে বরিশালবাসী তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে বিএনপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত বরিশাল সদর আসনের ভবিষ্যত্ নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করছেন না মজিবর রহমান সয়োরার। ইত্তেফাককে তিনি জানান, এই আসন থেকে মোট ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়রও তিনি। তাই জয়ের ব্যাপারে তার কোন সংশয় নেই। তবে নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে বলেই তিনি মাঠে নামছেন না। সরোয়ার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। সরকার যদি এ দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচন দেয় তাহলে গত নির্বাচনের চাইতে অবশ্যই বিএনপি আরো অনেক বেশি ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে।’ মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো বিএনপির সাবেক এমপি ও নতুন মুখের প্রার্থীরাও মনে করছেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে না। আর আওয়ামী লীগ এক তরফা নির্বাচন করলে সেখানে বিএনপি অংশ না নিলে তারা প্রার্থী হয়ে পরাজয়ের পাশাপাশি দলীয় পদ হারানোর ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তারা নির্বাচনী মাঠে নামছেন না। তবে বিএনপির প্রার্থীদের ধারণার উল্টো অবস্থানে দাঁড়িয়ে সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে- এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।