পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও যানবাহন ভাংচুরের মধ্যে বগুড়ায় হরতাল পালন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:০০
পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাংচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল নিয়ে জনমনে ব্যাপক উত্কণ্ঠা আর আতংক থাকলেও বড় ধরনের নাশকতা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জেলাজুড়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অবস্থান ছিল লক্ষণীয় ।
বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন থাকলেও রাস্তায় তেমন একটা যানবাহন নামেনি। শহরের প্রধান প্রধান বাণিজিক অফিসের পাশাপাশি মহল্লার দোকান পাট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। ভয় ও আতংকের কারণে রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলও ছিল কম।
সকাল সোয়া ৮টার দিকে শহরতলীর ছিলিমপুর বাইপাস সড়কে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে শিবির কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় সেখানে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান পৌঁছলে তা লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে শিবির কর্মীরা। বাধা দেয়ায় পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের বেশ কিছু সময় ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে শেরপুর উপজেলার শেরুয়া বটতলায় ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে রাতে ছেড়ে আসা বাস-ট্রাক হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আটকে দেয়। পরে পুলিশ পাহারায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ৪টি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী কোচ ভাংচুর করে তারা। এ ঘটনায় পুলিশ সেখানে ১ জনকে আটক করেছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার নিহত ছাত্রশিবির নেতা আবু রুহানীর গ্রামের বাড়ি বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় এলাকাবাসীসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা বগুড়া- নওগাঁ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে ।
হরতালের কারণে বগুড়া থেকে দুরপাল্লার এবং আন্ত:জেলার কোন বাস চলাচল না করলেও ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক । তবে হরতালকারীরা গোদারপাড়া, জামিলনগর, মাটিডালিসহ বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করেছে। হরতাল চলাকালে এসব এলাকায়ও বেশকিছু ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
হরতালকারীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় খন্ড খন্ড মিছিল করলেও শহরের জিরো পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত সাতমাথায় সমবেত হতে পারেনি। পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা শহর জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, বগুড়য়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বড় ধরনের কোন সহিংস ঘটনা জেলার কোথাও ঘটেনি। হরতাল শেষেও যাতে কেউ কোন বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব সদস্যরা টহল অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।