ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্যা গার্ডিয়ান’

প্রভাবশালী অভিযাত্রিক নারী

আলোর পথের অভিযাত্রিক নারীদের তালিকায় নাম লেখাতে ইচ্ছুক যেন কোনো বাধা বিপত্তিই তাদের পথকে রুদ্ধ করতে না পারে সে লক্ষ্যে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্যা গার্ডিয়ান শীর্ষ স্থানীয় ১০০ জন অভিযাত্রিক নারীকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ক্যলি হোলমেছ, রেবেকা আদলিংটন, আর্লিনি ব্লুম এবং কারেন ব্রাডি অন্যতম রেবেকা আদলিংটন ইংরেজি ফ্রি স্টাইল সাঁতারু রেবেকা আদলিংটনের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। অভিযাত্রিক নারীদের মধ্যে শীর্ষে থাকা তরুণী রেবেকা ইতিমধ্যে ব্রিটেনে শতাব্দীর সেরা অলিম্পিক সাঁতারু হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। খুব অল্প বয়স থেকেই রেবেকা সাঁতারের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। বড়ো বোনকে দেখে সাঁতারে উত্সাহী হন রেবেকা। ১২ বছর বয়সে তিনি একটি সুইমিং ক্লাবে ১ ঘণ্টা করে সাঁতারের অনুশীলন শুরু করেন। স্কুলে যাওয়ার পূর্বে তার মা সকাল ৫ টায় তাকে সুইমিং ক্লাবে রেখে যেতেন। এভাবে তিনি দৈনিক ৪ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন সাঁতার অনুশীলন করতেন। রেবেকা ২০০৮ সালে বেইজিং গেমস এ ৪০০মিটার এবং ৮০০ মিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক জয় করেন, যা পূর্ববর্তী পদক জয়ী জ্যানেট ইভান্সের ১৯ বছরের বিশ্ব রেকর্ডকে ভেঙ্গে দিয়েছে। পরে তিনি ২০১২ সালে আরো দুটি স্বর্ণপদক জয় করেন। এর ফলে তিনি ব্রিটেনের সর্বশ্রেষ্ঠ অলিম্পিক পদক জয়ী হিসেবে ভূষিত হন। ---- আর্লিনি ব্লুম বহুগুণে গুণান্বীত আর্লিনি ব্লুম শুধুমাত্র একজন পর্বতারোহীই নন, একই সাথে লেখক এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীও বটে। অন্নপূর্ণা আরোহী নারীদের মধ্যে আর্লিনিই ছিলেন শীর্ষ স্থানীয় নারী যা তাকে আমেরিকার প্রথম সফল পর্বতারোহী নেতৃত্বস্থানীয় নারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একটি রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেয়া মানে অনিশ্চিত ভবিষ্যত, কয়েক পুরুষের সেই ধারণাকে আর্লিনিই প্রথম ভুল প্রমাণ করেছিলেন। শিশুদের রাতে ঘুমানোর পোশাকে যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় তার বিরুদ্ধে একজন বায়োকেমিক্যাল গবেষক হিসেবে আর্লিনি কঠোরভাবে প্রচারাভিযান চালিয়েছিলেন, কারণ এতে শিশুদের শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্বতমালার কন্যাখ্যাত ৬৮ বছর বয়সি আর্লিনি মধ্যপ্রাচ্য একটি প্রকৃতিক সৌন্দার্যমণ্ডিত পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। ১৯৭০ সালে আর্লিনি সর্বপ্রথম মাউন্ট এমসিকিনলিতে পর্বতারোহী নারীদের নেতৃত্ব দেন। তিনিই আমেরিকার প্রথম পর্বত আরোহী, যিনি এভারেস্ট এবং অন্নপূর্ণার নারী অভিযাত্রীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ---- কারেন ব্রাডি ১৯৬৯ সালে জন্ম নেয়া ‘কারেন ব্রাডি’ একই সাথে টেলিভিশন সম্প্রচারক, সংবাদপত্রের কলাম লেখক এবং ঔপন্যাসিক। তিনি বার্মিংহাম সিটি ফুটবল ক্লাবের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমানে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের ভাইস চেয়ারম্যান। ১৯৯৭ সালে ইউকের পিএলসি কোম্পানি ব্যাপক সফলতার মুখ দেখে ব্রাডির সূচারু ভূমিকার কারণে এবং তখন থেকেই খ্যাতির শীর্ষে পা রাখতে শুরু করেন পিএলসি’র সর্বকনিষ্ঠ ব্রাডি। এভাবেই ৪৪ বছর বয়সী ব্রাডি হয়ে ওঠেন একজন সফল ব্যবসায়ী নেতা। ব্যবসা জগতে নারীদের এগিয়ে আসতে তিনি টিভিতে রিয়েলিটি শো করেন, যা দেখে পরবর্তীতে অনেক নারী উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। একসময় নারীরা ছিল ফুটবল মঞ্চ থেকে অনেক দূরে, শুধু চা পরিবেশন পর্যন্ত তারা সীমাবদ্ধ ছিল। একজন মহিলা একটি ক্লাব পরিচালনা করবে তখনকার সময় ছিল এটি কল্পনাতীত। সকল কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পরবর্তীতে ব্রাডিই বার্মিংহাম সিটি ক্লাবের প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত হন।