চাষির মজুত ফুরালে পাটের দাম চড়ল

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে কৃষকের ঘরের মজুত ফুরানোর পর পাটের দাম বাড়ল। কৃষক দাম না পেলেও ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের বাম্পার লাভ হল। ভরা মৌসুমের চেয়ে সব মানের পাটের দাম এখন মণ প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে (২০১২) খুলনা বিভাগের যশোর, ঝিনাইদহ মাগুরা, নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলাতে প্রায় দুইলাখ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। পাট চাষের শুরুতে চাষিদের বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করতে হয়। বৃষ্টির অভাবে সেচ দিয়ে বীজ বপন করতে হয়েছে। তারপরও বৃষ্টি না হওয়ায় মাঝেমাঝে হালকা সেচ দিতে হয়। ভরা বর্ষাতেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষি পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়ে। ক্ষেত থেকে পাট কেটে দূরবর্তী নদী বা খালে নিয়ে জাগ দিতে হয়। অনেকে পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দেয়। এতে উত্পাদন খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়াও ফলন কম হয়। চাষিরা জানায়, নতুন পাট ওঠার পর বাজার চড়া ছিল। জুলাই মাসে প্রতি মণ পাট ১৬শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। তারপর বাজারে পাটের আমদানি বাড়তে থাকলে দাম পড়তে থাকে। ভরা মৌসুমে নিম্নমানের পাট প্রতিমণ সাড়ে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। ভাল মানের পাট বিক্রি হয় ৯শ’ টাকা থেকে ১১শ’ টাকার মধ্যে। এ দামে পাট বিক্রি করে চাষির উত্পাদন খরচ উঠে না। চাষির ঘরের মজুত পাট ফুরাতে থাকে। আর পাটের দাম একটু একটু করে চড়তে থাকে। পাট ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, যে পাটের প্রতিমণের দাম ভরা মৌসুমে ৬শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা ছিল, সে মানের পাট এখন ১১শ’ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর যে পাট প্রতিমণ ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, তার দাম বেড়ে এখন ১৪শ’ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকা। আর ১২শ’ টাকা মণের পাট এখন ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যে সব ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া পাট কিনে মজুত করেছিল তাদের বাম্পার লাভ হচ্ছে। এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান পাটের হাট মাগুরা জেলার শ্রীপুর, লাঙ্গলবাধ, নাকোল, দারিয়াপুর, গাংনালিয়া, মাগুরা সদর, শত্রুজিত্পুর, বিনোদপুর, মহম্মদপুর, শালিখা ও আড়পাড়া, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা, ভাটই, ঝিনাইদহ সদর, হাটগোপালপুর, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা, সদর, জীবননগর ও মুন্সিগঞ্জ, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, প্রাগপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, কুমারখালী, হরিনারায়ণপুর, পান্টি, গণেশপুর ও খোকসা, যশোর জেলার চৌগাছা, নাভারন, ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও রূপদিয়া, মেহেরপুর জেলার বামুনদী, মেহেরপুর সদর ও গাংনী এবং নড়াইল জেলার নড়াগাতি, মহাজন, কালিয়া, বড়দিয়া ও লোহাগড়া হাটে এখনো বেশ পরিমাণ পাট উঠছে। ব্যবসায়ীদের গুদামে প্রচুর পাট মজুত আছে। তারা সে পাট বাজারে ছাড়ছে। এ অঞ্চলের পাটের প্রধান বিক্রয় কেন্দ্র খুলনার দৌলতপুর। সেখানকার পাট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের জুট মিলগুলো জোরেসোরে পাট কেনায় দাম চড়ে গেছে। দৌলতপুরের পাট ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আহাম্মদুল্লাহ জুট ট্রেডিং এর মালিক মো. মিজানুর রহমান মজনু জানান, ভরা মৌসুমের চেয়ে মণ প্রতি পাটের দাম ৪-৫শ’ টাকা বেড়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের দাম বেশি। বাংলাদেশের পাটের প্রধান ক্রেতা চীন, ভারত ও পাকিস্তান। তারাও পাট কিনছে বলে তিনি জানান।