টায়ারের আমদানি মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০৬
টায়ার আমদানির উপর নতুন করে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে নির্দিষ্ট দামের নিচে কেউ আমদানি মূল্যের ঘোষণা দিতে পারবেন না। এনবিআর এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে। এরফলে টায়ার আমদানির ক্ষেত্রে টায়ারের মূল্য ঘোষণায় কারসাজির সুযোগ কমে যাবে বলে মনে করছে এনবিআর। তবে এর ফলে টায়ারের দাম বেড়ে এই বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা।
এনবিআরের জারি করা আদেশে বলা হয়, মোটরকার, মাইক্রোবাস ও পিক-আপের টায়ার ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করার ক্ষেত্রে প্রতিটি টায়ারের মোট ওজনের সাথে ৪ ডলার গুণ করে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হবে। ভারত, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে মোট ওজনের সাথে ৪ দশমিক ২৫ ডলার এবং কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে মোট ওজনের সাথে ৫ ডলার গুণ করে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হবে। মোটর সাইকেলের টায়ার ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি হলে ওজনের সঙ্গে ৩ দশমিক ৫ ডলার; ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি হলে মোট ওজনের সঙ্গে পৌনে চার ডলার এবং কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হলে ৪ দশমিক ৫ ডলার গুণ করে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত হবে। অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের টায়ারের ক্ষেত্রেও দেশভেদে ৩ দশমিক ৭৫ ডলার, ৪ ডলার এবং সাড়ে ৪ ডলার গুণ করে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত হবে। আদেশে উল্লিখিত দামের চেয়ে কোনো টায়ার আমদানি দেখানো যাবে না। এনবিআরের নিয়মানুযায়ী, পৃথক তিনটি পণ্য পরিচিতি কোডভুক্ত (এইচএস কোড) টায়ার আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম আয়কর (এআইটি), অগ্রিম বাণিজ্যিক ভ্যাট (এটিভি) মিলে ৬১ শতাংশ হারে কর পরিশোধের বিধান রয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগে এই সব গাড়ির টায়ার আমদানির উপর কোনো ট্যারিফ ভ্যালু ছিল না। অভিযোগ ছিল, এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে কারসাজি করে আমদানিকারকদের ইচ্ছেমত কম মূল্য ঘোষণা দেয়া হতো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে এনবিআরে একাধিক অভিযোগ পত্র পাঠায় দেশীয় উত্পাদনকারকদের সংগঠন। এর উপর ভিত্তি করে এনবিআর একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে এই ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
তবে টায়ার আমদানিকারকরা মনে করছেন, এর ফলে টায়ারের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হারে বেড়ে যাবে। এনবিআরের চাপিয়ে দেয়া এই অধিক মূল্যের বোঝা জনগণের উপর পড়বে।