মু খো মু খি
‘না মানুষ’-এর কোনো ভবিষ্যত্ নেই, এটা হবে না
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪০
অনিমেষ আইচ। ছোটপর্দায় নাটক নির্মাণে একজন সফল নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন অনেক আগেই। নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের কাজেও হাত দিয়েছেন প্রায় দু বছর হলো। শুরুতে চলচ্চিত্রটির কাজ খুব দ্রুত এগোলেও এক পর্যায়ে এসে থেমে যায়। তার এই চলচ্চিত্র ও নাটকসহ মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান
‘না মানুষ’-এর ভবিষ্যত্ কী?
আসলে ‘না মানুষ’-এর কোনো ভবিষ্যত্ নেই। এটা হবে না, হচ্ছে না।
কারণ কী?
কারণ, এর প্রডিউসার যারা তারা দেশে কেউ নেই, তারা টাকা দিতে অক্ষম। আর বাংলাদেশের অনেককেই আমি বলেছিলাম, তারা কেউ এগিয়ে আসছে না। এটা আসলে আর জীবনেও হবে না। আমার শিল্পী যারা ছিলেন তারা সবাই বড় হয়ে যাচ্ছে, শিশু শিল্পীরা বেড়ে উঠছে, আর কীভাবে হবে।
তাহলে কী এটা এখানেই স্থগিত, অন্য কোনো কাজে হাত দিচ্ছেন?
হ্যাঁ, অন্য কাজে তো হাত দিতেই হবে। তবে ‘না মানুষ’টা মানুষ করার চেষ্টা করব।
সেটা কীভাবে?
ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে, যতদূর পারি ততদূরই করব। কিছুদিন আগে তো আবার মৌসুমী এক্সিডেন্ট করল, তাই আবার থেমে গিয়েছি। দেখি কী হয়।
নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কি হাত দিচ্ছেন?
হ্যাঁ, নতুন আরও দুইটি চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি নিয়েছি। একটির কাজ শুরু করব বর্ষাকালে, আরেকটি পরবর্তী শীতে।
ছবিগুলোর নাম-কাস্টিং কি ঠিক হয়েছে?
এবার আর ভুল করব না, ‘না মানুষ’ আগে থেকে সবাইকে জানানোর কারণেই ওটার কোনো গতি হয়নি। এবার দেখি সবাইকে না জানিয়েই এগোতে পারি কি না। একবার ধরা খেয়েছি, আর খেতে চাই না।
সম্প্রতি এফডিসিতে এক আলোচনায় বিদেশি চলচ্চিত্র বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে চালানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এ কাজটা হলে তো অনেক ভালো হয়। আমি এটার পক্ষেই। বলিউড-হলিউডের ছবি যদি এ দেশে আসে তাহলে দর্শকদের সিনেমা দেখার চর্চাটা বাড়বে। তার মানে তো এই না যে, দর্শকরা বাংলা ছবি দেখবে না। তারা অবশ্যই দেখবে। মুক্ত বাজারের এই বিশ্বে আমাদের সবকিছুতেই মুক্ত করে দেওয়া উচিত। শুধু শুধু সিনেমাটা আটকে রেখে কী লাভ। এর মধ্য দিয়ে আমাদের সিনেমা ও শিল্পীরাও বাইরের দেশে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। দর্শকরা এক টিভির মধ্যে আর কতদিন আটকা পড়ে থাকবে। তাদের জোর করে আটকে রাখাটাও ঠিক না।
আর চলচ্চিত্র শিল্প প্রসঙ্গে এর বেশি বলাটা ঠিক হবে না। এখনও তো চলচ্চিত্র বানাতেই পারলাম না। সে জায়গা থেকে না বলাটাই ভালো।
শুনেছি আপনি নাকি নাটকে অভিনয় করছেন?
হ্যাঁ, আমার চিত্রনাট্যেরই একটি নাটক। আগামী সপ্তাহে শুটিং। আমি চিত্রনাট্য করতে খুবই পছন্দ করি। আর যিনি পরিচালক তিনি আমার খুব কাছের মানুষ। একরকম জোর করেই আমাকে অভিনয়ে টানার চেষ্টা করছে। আমি মোটেও অভিনয় পারি না। নাও করতে পারি, ঠিক নেই।
নাটক কি নিয়মিত বানাবেন না?
তাতো বানাতেই হবে। চলচ্চিত্রে হাত দিয়ে যখন শেষ করতে পারলাম না, তখন নিজে তো চলতে হবে। সেই স্বার্থেই হয়তো বানাবো।
আমাদের এ সময়ের নাটক প্রসঙ্গে কিছু বলুন—
আসলে আমি নাটক দেখি না, দেখার সময় পাই না। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতেও পারব না। তবে শুনছি অনেক ভালো নাটকই আমাদের মিডিয়াতে এখন হচ্ছে।
ইদানীং আমাদের দেশের নাটক ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি মডেলের ব্যবহার বেড়েছে। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমার কাছে এ বিষয়টিও ভালো মনে হয়। বাইরের দেশের শিল্পীরা এসে আমাদের মিডিয়া সম্পর্কে জেনে যাচ্ছে, আর আমাদের শিল্পীরাও বাইরে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এটা খুবই ভালো। আর যদি এক তরফা হয় তাহলে এতে কোনো সুফল আছে বলে মনে হয় না।