ক্ষতিপূরণ না পেয়ে কৃষকরা ক্ষুব্ধ
তালায় কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা
গাজী জাহিদুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প’র (১ম পর্যায়ে) আওতায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রকল্পের এক বছর মেয়াদ শেষ হলেও এখনো প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পভুক্ত জমিগুলোতে এখনও প্রভাবশালি মহলের দখলে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিকানা নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার ব্যবস্থা হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প (১ম পর্যায়) পাখিমারা বিলে টি.আর.এম প্রকল্পের পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মাণ বাবদ ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১২ হাজার ৭৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ গত বছরের (২০১২ সালের) ১২ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ জুন শেষ হবার কথা ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ৭ মাস পরও এই প্রকল্পের অগ্রগতি নেই। প্রকল্প এলাকায় যেয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। প্রকল্প এলাকা জুড়ে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। কেউ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন। আবার জমির মালিকদের নিকট থেকে হারি নিয়ে শত শত বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করছে প্রভাবশালি মহল। এসকল প্রভাবশালি মহলের ইন্ধনে ও অর্থ সহযোগিতায় কয়েকজন জমির মালিকদের বাদি করে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করে টিআরএম প্রকল্প সাময়িক বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
হাইকের্টে রীট পিটিশনকারী আয়ুব আলী সানা, জালাল মোড়ল, সাইফুল্লাহ সরদার, আবু শাহিনসহ কয়েকজন বলেন, “জমির ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়াসহ কয়েকটি সমস্যার কারণে উক্ত মামলা করা হয়েছে।”
জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, এলাকার জনগণকে বাঁচাতে টিআরএম এর বিকল্প নেই। তবে তার আগে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর গুটিকয়েক ঘের মালিকের ইন্ধনে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রকল্প বাস্তবায়নকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, টিআরএমভুক্ত জমির মালিকদের বিঘাপ্রতি ১৩ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর মামলা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি হলেই টিআরএমের বাকি কাজ শেষ করা হবে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ড. মুহাঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, টিআরএমভুক্ত জমির মালিকদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি জমির জন্য প্রতিবছর বিঘা প্রতি ৯ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য প্রস্তাবনা প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান হবে।