চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোন গরমিল নেই
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রকাশিত ভোটার হিসাবের কোন গরমিল খুঁজে পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল। প্রসঙ্গত গণমাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের হদিস নেই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মুদ্রণ ভুলের কারণেই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো ঃ শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, প্রকাশিত তালিকায় ভোটারের গরমিল থাকার কোন সুযোগ নেই। হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর আগে মুদ্রণ ত্রুটির কারণে হিসাবে হয়তো গরমিল ছিল। বর্তমান তালিকা শতভাগ সঠিক বলে তিনি জানান। গত শনিবার গণমাধ্যমে ‘হদিস নেই সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে কমিশন। রবিবার সকালে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ও অতিরিক্ত সচিব মো ঃ সিরাজুল ইসলাম তাত্ক্ষণিকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অবস্থিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে গিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। ওই সময়ে ভোটার সার্ভারেও প্রকাশিত ভোটার তালিকার বাইরে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০১২ সালের ৮ মার্চের সাংবাদিক সম্মেলনে অসাবধানতাবশত সাংবাদিকদের ভোটারের সংখ্যা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। ওই সময়ে বিদ্যমান ভোটার ৮ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৩৫৬ জন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাংবাদিকদের বক্তব্যের কপি প্রদানের আগে পরিসংখ্যানগত ভুলটি কমিশনের নজরে আসে। পরে সংশোধন করে লেখা হয় ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০ জন (যা ছিল প্রকৃত সংখ্যা) । কিন্তু গণমাধ্যমের কিছু কর্মীর হাতে অসংশোধিত কপিটি চলে যায়। যে কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ইত্তেফাককে জানান, ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। হালনাগাদের আগে সাংবাদিকদের সরবরাহ করা কপিটি ছিল তথ্যগত ভুল। এটি সংশোধনের নির্দেশনা থাকলেও অসতর্কতাবশত করা হয়নি। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মুদ্রণজনিত ভুলটি করেছে ইসি সচিবালয়। এখানে কমিশনের কোন দায়িত্ব নেই। বরং কমিশনারদের নজরে বিষয়টি আসামাত্রই তা সংশোধনের নির্দেশ দেয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সারাদেশে বর্তমান মোট ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৬২ লাখ এক হাজার ৮৭১ ও মহিলা ভোটার ৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৮১। হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর আগে ভোটার ছিল ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১। মৃত ভোটার কর্তন করা হয়েছে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০ জন। ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৪ জন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে ২০১২ সালের ১০ মার্চ থেকে মাঠ পর্যায়ের ভোটার হালনাগাদ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদেরকে এবারের হালনাগাদে ভোটার করা হয়েছে। শেষ হয় একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৯ এবং পুরুষ ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯ জন। এরপর ২০০৯ সালের হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৩ জনে। ওই সময়ে মোট ভোটার বেড়েছিল ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিল ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৬ এবং পুরুষ ভোটার ছিল ২৬ লাখ ১১ হাজার ২৭৯ জন। পরবর্তীতে দুই বছর ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভোটার করার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
আমাদের বক্তব্য ঃ ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অসংশোধিত একটি কপি ইত্তেফাক প্রতিবেদকের কাছে চলে আসে। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নাগরিক সমাজের দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয় তার সঙ্গে ইত্তেফাকের কোন সম্পর্ক নেই। এসব মন্তব্য ছিল একান্ত তাদের নিজস্ব।