‘যুদ্ধাপরাধীরা স্বাধীনতার কলংক’
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীরা স্বাধীনতার কলঙ্ক। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া যতই আন্দোলনের নামে আস্ফাালন করুন, ক্যাডার বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে মানুষ ও পুলিশকে হত্যা করুন না কেন, এ বিচার তিনি (খালেদা জিয়া) বন্ধ করতে পারবেন না। বরং যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নামে মানুষ হত্যা, পুলিশ হত্যার জন্য একদিন জনগণ বাংলার মাটিতে খালেদা জিয়া ও তার ক্যাডারদের বিচার করবে। গতকাল রবিবার বিকালে কামরাঙ্গীরচরের কোম্পানীঘাট মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর-সাভার থানা আওয়ামী লীগ এই জনসভার আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ ভাষার অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন পেয়েছে। আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিলে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবো। এ সময় জনসভায় উপস্থিত লাখো জনতা দু’হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীকে আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে মার্শাল ল অর্ডিন্যান্স জারি করে এ বিচার বন্ধ করে দেন। কারাগারে আটক যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-উপদেষ্টা পর্যন্তও বানান। এরই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাদের গাড়িতে লাখো শহীদের রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে রাজপথে আন্দোলন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণ প্রদানের আগে কামরাঙ্গীরচর এলাকাকে তিনি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলে এলাকার লাখো মানুষ তুমুল করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখ জামাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট কামরুল কমিউনিটি সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি খোলামুড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতু নির্মাণেরও ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীর জন্য স্থানীয় দুই শিল্পপতির দেয়া দুটি পিকআপ ভ্যানেরও চাবি হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, নসরুল হাসিদ বিপু এমপি, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি, বেনজির আহমেদ এমপি প্রমুখ।