বাণিজ্যিকভাবে ব্রকলি চাষ হচ্ছে কোটালীপাড়ায়

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উচ্চ খাদ্যমান সম্পন্ন সবজি ব্রকলী চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক ভাবে। বেসরকারি সংস্থা কৈননীয়া’র ‘ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রামে’র প্রজেক্ট অফিসার কৃষিবিদ অসীত বরণ মণ্ডল তিন বছর আগে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সের জায়গায় পরীক্ষামূলক ভাবে এর চাষ শুরু করেন। পরে তিনি সংস্থার সুফলভোগী ২০ কৃষকের মাঝে ব্রকলীর চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেন। গত দু’বছর ধরে ওই কৃষকেরাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজিটির চাষ করছেন। প্রসঙ্গত, ব্রকলী হচ্ছে অনেকটা ফুলকপির মতো দেখতে বেগুনি বা সবুজ বর্ণের উদ্ভিদ; যার কুঁড়ি ও কাণ্ড সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। উপজেলার মূলবাড়ী গ্রামের কৃষক পরিতোষ হালদার বলেন, আমি এ বছর ৬ কাঠা জমিতে ব্রকলীর চাষ করে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। ব্রকলী চাষ খুবই লাভজনক। আগামী বছর তিনি ব্যাপক ভাবে এর চাষ করবেন বলে জানান। কৃষিবিদ অসীত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘ব্রকলী ‘ক্রসিফেরী’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি সবজি। এটির গঠন প্রকৃতি একটু ভিন্নতর। প্রাথমিক বৃদ্ধির পর এর কাণ্ডের অগ্রভাগের টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে পুষ্পমঞ্জুরীতে পরিণত হয়। সাধারণত এর রং হয় সবুজ। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু এবং শরীরের ক্যান্সার সেল বা কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। স্বাদ ও বর্ণে আকর্ষণীয় হওয়ায় এই এলাকার জনসাধারণের মাঝে ব্রকলী চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।’ অসীত বরণ জানান, প্রতি শতক জায়গায় ২৫-৩০ দিন বয়সের ২০০টি চারা রোপণ করে মাত্র ৫০-৬০ দিন পরই ৪০ মণ ব্রকলী উত্পাদন করা সম্ভব। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা দামে বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা আয় করা যায়। অথচ শতক প্রতি জমি তৈরি, বীজ, সার ও অন্যান্যসহ সর্বোচ্চ মোট খরচ ১ হাজার টাকা। যা অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় লাভজনক। ব্রকলী সাধারণত দোআঁঁশ ও এঁটেল দোআঁঁশ মাটিতে ভাল হয়। মাটি ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হয়। মধ্য ভাদ্র-মধ্য পৌষ এর মধ্য বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে হয়। ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা ৫০ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়। এরপর একর প্রতি গোবর ৬ টন, ইউরিয়া ১০০ কেজি, টি এস পি ৭০ কেজি ও পটাশ ৫৫ কেজি প্রয়োগ করতে হবে বলে এই কৃষিবিদ জানান। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাহমুদুন্নবী বলেন, ব্রকলীর চারা রোপণের পর নিয়মিত সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে। শাখা কাণ্ড ভেঙ্গে দিতে হবে। এতে তেমন কোন রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দেখা যায় না। তবে আবহাওয়া মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন হলে প্রতি ৭ দিন পর পর ডায়থেন-এম-৪৫ স্প্রে করতে হয়। চারা রোপণের ৫০-৬০ দিন পর ফসল সংগ্রহের উপযুক্ত হয় এবং একর প্রতি প্রায় ৬-৮ টন ফলন হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, এটি একটি উচ্চমূল্যের সবজি। কাটালীপাড়ার মাটি ও পরিবেশ ব্রকলী চাষের উপযুক্ত। তুলনামূলক উঁচু জমিতে ব্রকলী চাষাবাদের মাধ্যমে এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে পাঠানো সম্ভব। যার মাধ্যমে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।