চট্টগ্রাম বন্দরে অলস পড়ে আছে ডব্লিউটিসির ছোট জাহাজগুলো

চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-চ্যানেলসহ কর্ণফুলী নদীতে বেকার বসে আছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (ডব্লিউটিসি) পরিচালিত অসংখ্য ছোট জাহাজ। গত দুই বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের পণ্য পরিবহনকারী এসব জাহাজের বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। ডব্লিউটিসি’র পরিচালনায় লাইটারিং, অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহনসহ এ ধরনের কাজে নিয়োজিত ছোট জাহাজগুলোর মালিকদের এখন চলছে দুরবস্থা। বড় জাহাজ মালিক ও আমদানিকারকরা নিজেরাই এখন নিজস্ব ছোট জাহাজ কিংবা ভাড়া করা জাহাজ দিয়ে লাইটারিং ও বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, তাদের জরিপ ও পরিদর্শন অনুসারে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পতেঙ্গা পয়েন্টে গত ১৯ জানুয়ারি কাজবিহীন নোঙ্গর করে ছিল ১৭০টি ছোট জাহাজ। তার বাইরে বাংলা বাজার ও শাহ আমানত ব্রিজের পূর্ব পাশে নোঙ্গর করে ছিল ১০০টির মতো অভ্যন্তরীণ রুটের ছোট জাহাজ। এগুলোর প্রায় সবগুলোই ডব্লিউটিসি পরিচালিত বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এসে নোঙ্গর করা ছোট জাহাজের সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন অধিদফতর সূত্র। সূত্রটির তথ্যমতে নোঙ্গর করে থাকা অনেক জাহাজ আবার গত তিন মাস ধরে পরিবহনের জন্য কোনো পণ্যই পায়নি বলে জাহাজে অবস্থানরত বেকার ক্রু-নাবিকরা জানায়। তার উপর পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে কাজের খোঁজে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে অভ্যন্তরীণ নদীপথে চলাচলকারী অধিক সংখ্যক ছোট জাহাজের সমাগম। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামস্থ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গত দুই বছর ধরে ডব্লিউটিসি পরিচালিত ছোট জাহাজগুলোর বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। তার দেয়া পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে লাইটারেজসহ অভ্যন্তরীণ রুটের ছোট জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে ১১০০। এসব জাহাজ এক সময় বছরে ১ কোটি টন পণ্য ভাগাভাগি করে পরিবহন করে দুই পয়সা কামাই করতে পারতো। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তাও মিলছে না। বড় জাহাজের মালিক, আমদানিকারকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে সংগৃহীত জাহাজে সেসব পণ্য এখন পরিবহন করছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, কথায় কথায় ডব্লিউটিসি তাদের জাহাজে পণ্য পরিবহন ভাড়া অসহণীয় মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়ায় বড় জাহাজের মালিক ও আমদানিকারকরা নিজস্ব ছোট জাহাজের সংস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। ডব্লিউটিসি ৫ টাকা ভাড়ার স্থলে ২৫ টাকা ভাড়া দাবি করা শুরু করলে বন্দরের আমদানিকারকরা বিপুল পরিমাণ আমদানি ব্যয়ের কবলে পড়েন। ফলে তাদের এই উদ্যোগ নিতে হয়েছে।