সবজি চাষে বদলে গেছে আদিতমারীর ২৫ গ্রাম
সুলতান হোসেন, আদিতমারী (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
সবজি চাষে পরিচিত হয়েছে সবজি গ্রাম হিসাবে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম। আবার সবজির নাম অনুসারে অনেকেরই হয়েছে নামকরণ। গ্রামগুলোর চারিদিকে চোখ মেললেই দেখা যায় নানা ধরনের সবজির ক্ষেত। এখানকার কৃষকরা সবজি চাষ করে পাল্টে ফেলেছেন তাদের জীবনযাত্রার মান। কয়েক বছর আগেও তাদের অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, সারপুকুর, সাপ্টিবাড়ি ও ভাদাই ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের মানুষ সবজি চাষাবাদ করে তাদের জীবনযাত্রার মান পাল্টিয়ে দিয়েছে। এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি শতাংশ জমিতে সবজির শ্রেণি ভেদে খরচ পড়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা এবং উত্পাদিত সবজি বিক্রি করে আয় হয় সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে ওইসব গ্রামে এ মৌসুমে বেগুন, কাঁচা মরিচ ,শসা, বরবটি,আলুসহ অসংখ্য সবজি চাষের সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। সারপুকুর ইউনিয়নের সবজি চাষি বঙ্কিম চন্দ্র (৬০) জানান, এক সময় তার অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। আবাদি কৃষি জমি থাকলেও সবজি চাষাবাদের নিয়ম-কানুন না জানায় বছরের অধিকাংশ সময় পতিত থাকতো এসব জমি। গত ১০ বছরে সবজি চাষ করে পাল্টে গেছে জীবনযাত্রার মান। সবজির পাশাপাশি সবজি বীজ উত্পাদন করছেন তিনি। আর এ সকল বীজ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। শুধু বঙ্কিম চন্দ্রই নয় এ রকম সফল সবজি চাষি হিসাবে কুমড়িরহাট এলাকার রয়েছেন চিচিংগা কুদ্দুস, করলা মতিন আবার ইউনুস মাস্টার হয়েছেন পেঁপে ইউনুস হিসাবে পরিচিত।
যদিও কৃষকের অভিযোগ, সুষুম বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের জিম্মি থাকতে হচ্ছে। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কমদামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার সংরক্ষণের অভাবে উত্পাদিত সবজি পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলায় এগারশ’ ৫০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষাবাদ হয়েছে।