ঝিনাইদহে পচন রোগে চারা নষ্ট

বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও পচন রোগের কারণে প্রচুর চারা নষ্ট হয়েছে। চারার অভাব ও বোরোর বদলে গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য রবি ফসল চাষে চাষি ঝুঁকে পড়ায় চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫শ’ ৫৫ হেক্টরে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। ধানের দর পতনের কারণে বহু চাষি বোরো চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তারা গম, ভুট্টা, সর্ষে ও ডাল জাতীয় ফসল চাষে ঝুঁকে পড়ে। গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ হাজার ৮শ’ ৮৫ হেক্টর। গম চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার হেক্টর বেশি হয়েছে। ভুট্টা চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার হেক্টর ও সর্ষে ২ হাজার হেক্টর বেশি চাষ হয়েছে। সব মিলিয়ে শীতকালীন অন্যান্য ফসলের আবাদ গত বছরের চেয়ে ২৫ হাজার হেক্টর বেশি চাষ হয়েছে। ফলে বোরো চাষের জমি এমনিতেই ২৫ হাজার হেক্টর কমে গেছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েও চাষিরা বোরো চাষে নেমে পড়ে। ডিসেম্বর মাসে বীজতলা তৈরি করে। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলাতে কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাকের আক্রমণে পচন রোগ ছড়িয়ে পড়ে। শ’ শ’ হেক্টর বীজতলার কচি কচি চারা বিবর্ণ হয়ে যায়। ছত্রাকের আক্রমণে চারাতে পচন ধরে। বহু চারা পচে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি ও পচন ধরে বীজতলাতে। প্রকৃতির কারণে এটা হয়েছে। বীজতলা রাতে পলিথিন কাগজ দিয়ে ঢেকে দিলে কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাকের আক্রমণ ঠেকানো যায়। তা অবশ্য ব্যয়বহুল। চাষিদের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। তাছাড়াও রাতে বীজতলাতে পানি দিয়ে সকালে ওই পানি বের করে দিলে আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।