শিবগঞ্জে ঘন কুয়াশায় ধানের বীজতলা নষ্ট
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৩
শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বীজতলায় ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫ হাজার কৃষক হতাশ। এ বছর শিবগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে যাচ্ছে।
সরেজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, এ বছর অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে শত শত বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের চারা পুনরায় সজীব হবে বলে অপপ্রচার চালিয়ে কিছুু কীটনাশক কোম্পানি কীটনাশক বিক্রি করে কৃষকের সাথে প্রতারণা করেছে। কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ধানের পরিবর্তে ভুট্টার আবাদ করছি। তারা জানান, প্রতি বছর বীজতলায় ১০ কেজি বীজ বপন করে এক একর জমির চারা হয়েছে। কিন্তু এ বছর ১০ কেজি বীজ বপন করে মাত্র ১ বিঘা অর্থাত্ ৩৩ শতক জমিতে চারা লাগানো সম্ভব হচ্ছে। খরচও দ্বিগুণ। শুধু তাই নয় এ বছরে বীজ ভাল পেলেও কীটনাশকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানি চরমভাবে প্রতারণা করেছে। ভুট্টার আবাদ করায় একদিকে যেমন চারার সমস্যা থাকছে না, অন্যদিকে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইপিএম ক্লাবের সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ কৃষকদের একজন সাইদুর রহমান জানান, ১০ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যে বিএডিসি হতে ৩৪ টাকা কেজি দরে ৬০ কেজি ধানের বীজ ৬ কাঠা জমিতে বপন করি। শৈত্য প্রবাহের সময় কৃষি অফিসারের সাথে পরামর্শ করে অনেক চেষ্টা করেও বীজতলার চারা বাঁচাতে পারিনি। শেষ অবধি এবছর মাত্র ৩ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে বাকি জমিতে ভুট্টার আবাদ করছি।
এলাকার কৃষক সমাজ মনে করে, এ বছর ১২ হাজারের স্থলে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হতে পারে।