পান্থপথে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ, ভাংচুর

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের অপসারণ ও শিক্ষকের ওপর হামলাকারী প্রদর্শক (ডেমোনেসটেটর) মনিরুজ্জামান মনিরের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে পান্থপথ অবরোধ করে। রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের রাবার বুলেটে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ সময় ফুটপাতের দোকান ভাংচুর করলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ৪/৫ টি গাড়ি ভাংচুর করে। ফলে প্রায় আড়াই ঘন্টা পান্থপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পান্থপথে ঢাকা পাবলিক কলেজ অবস্থিত। গতকাল অন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাসেল, শোভন ও ফয়সাল জানায়, তাদের কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল অতিরিক্ত টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায়। এমনকি কলেজের যেসব শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার বেশির ভাগের নিয়োগ হয়েছে টাকার বিনিময়ে। কয়েকদিন আগে কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিনের ওপর প্রদর্শক মনিরুজ্জামান মনির হামলা চালায়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রদর্শকের পক্ষে অবস্থান নেন। এর প্রতিবাদের গতকাল সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে পান্থপথ অবরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে চাইলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে গোলাম কিবরিয়া আফিস নামে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বুলেটবিদ্ধ হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশের রাবার বুলেটের কারণে শিক্ষার্থীরা টিকতে না পেরে তারা সামনে ফুটপাতের চায়ের দোকান ও পাশের ফার্নিচার দোকানে হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কাঁঠালবাগানের গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কলাবাগান থানার ওসি এনামুল হক জানান, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় কোন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়নি। তবে পুলিশ ঐ কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবে।