লেখক প্রকাশক পাঠকদের অস্তিত্ব জুড়ে হুমায়ূন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
‘হুমায়ূন আহমেদ নেই ভাবতেই পারছি না। মেলায় এসেছি আর হুমায়ূন আহমেদের বই কিনবো না এও কি হয়’— বলছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেহজাবীন তানজিলা। মেহজাবীনের মত অনেকেই মেলায় এসে হুমায়ূনের জন্য শোক প্রকাশ করলেন। কিংবদন্তী লেখক হুমায়ূনের প্রয়াণে এবার বইমেলা তাকে উত্সর্গ করা হয়েছে। প্রকাশকরাও এবার তার স্মরণে নানা ধরনের বই প্রকাশ করছেন। প্রিয় লেখকের শারীরিক উপস্থিতি নেই, কিন্তু লেখক-প্রকাশকদের অস্তিত্ব জুড়ে আছেন তিনি। এবার অন্যপ্রকাশ থেকে বের হচ্ছে তার শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’। এছাড়াও তার পুরনো বইয়ের সংকলন এবং তাকে নিয়ে অনেকের লেখা বই বেরুচ্ছে এবারের বইমেলায়।
হুমায়ূনভক্ত লেখক মোহিত কামাল বললেন, হুমায়ূন আহমেদ শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তিনি আমাদের অস্তিত্বে মিশে রয়েছেন। রবীন্দ নাথ, নজরুল নেই, কিন্তু তাদের লেখনী আমাদের প্রেরণার উত্স। হুমায়ূন আহমেদও এভাবেই বেঁচে থাকবেন আমাদের অন্তরে। হুমায়ূন আহমেদের সিংহভাগ বইয়ের প্রকাশনা আসছে ‘অন্যপ্রকাশ’ থেকে। তারা বরাবরের মতো মেলায় নিজেদের স্টলটিকে জাঁকজমকভাবে না সাজিয়ে শোকের আবহে সাজিয়েছে। বিক্রয় প্রতিনিধিদের পরনে রয়েছে শোকের কালো পোশাক। বই বহন করার প্যাকেটটির একপাশে হুমায়ূন আহমেদের সাদা-কালো ছবি। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বললেন, এবারের মেলায় হুমায়ূন আহমেদের নতুন বই বলতে একটি, সেটি হলো ‘দেয়াল’। উপন্যাসটি ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেলায় চলে আসবে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি সংকলন গ্রন্থ বেরুবে। সেগুলো হলো—‘ভ্রমণসমগ্র’, ‘রচনাবলী সপ্তম খণ্ড’, ‘হিমু-৯’, ‘নির্বাচিত মিসির আলি’, ‘উত্সর্গ’, ‘হিজিবিজি’ ও ‘লীলাবতীর মৃত্যু’। এছাড়া অন্যপ্রকাশ থেকে আরো বেরিয়েছে হুমায়ূন আহমেদের সালেহ চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘শিশু কিশোর রচনাবলী’, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মারক গ্রন্থ’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ’, পূরবী বসুর ‘নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিত্সা ও অন্যান্য’, শাকুর মজিদের ‘নুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি’, মোহাম্মদ হান্্নানের ‘হুমায়ূন আহমেদের ধর্মচেতনা ও মৃত্যুচিন্তা’, মুনীর আহমেদের ‘হুমায়ূন আহমেদ ও যত কথা’, নাসির আলী মামুনের তোলা আলোকচিত্রের অ্যালবাম ‘অনন্ত জীবন যদি’, আখতারুজ্জামানের ‘নুহাশপল্লী ও একজন হুমায়ূন আহমেদ’, সাহানা কায়েসের ‘হুমায়ূন আহমেদের চিঠি ও অন্যান্য’, মাজহারুল ইসলামের ‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নয় রাত’, মুম রহমানের ‘হুমায়ূন আহমেদের ছোটগল্প’, আবদুল্লাহ নাসের ও মোমিন রহমানের ‘হিমু ও মিসির আলির কথা’, মোমিন রহমানের ‘সেলুলয়েডের কারিগর হুমায়ূন আহমেদ’। এছাড়াও প্রকাশনা সংস্থাটি থেকে হুমায়ূন আহমেদের দুইটি গ্রন্থের ইংরেজি তর্জমা ‘লিঙ্গারিং লুক এট ডেজ্ গন বাই’ ও ‘হু স্পিক’ বেরুবে। এর পাশাপাশি ছোটদের জন্য হুমায়ূন আহমেদের লেখা আটটি বইয়ের ইংরেজি তর্জমা বেরুবে। অবসর প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে হুমায়ূন আহমেদের আত্মজৈবনিক রচনা সমগ্র ও মিসির আলি অমনিবাস তৃতীয় খণ্ড বের হবে। অনন্যা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘হিমু সমগ্র দ্বিতীয় খণ্ড’ ও ‘হুমায়ূন বিচিত্রা’ নামে দুটি বই বের হবে। অন্বেষা থেকে বেরিয়েছে ‘কিশোর উপন্যাস সমগ্র’, ‘কিশোর গল্প সমগ্র’, সালেহ চৌধুরী সম্পাদিত ‘হুমায়ূন আহমেদ ও আমি’। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের অন্য প্রকাশকরা পুরনো বইগুলোর নতুন সংস্করণ করে মেলায় আনবেন।
নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন :সোমবার মেলার ‘নজরুল মঞ্চে’ ৬টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। এর মধ্যে নন্দিতা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত রায়হানা পারভীন লুনার কাব্যগ্রন্থ ‘জোছনা জলে তুমি আমি’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় । এ সময় সমকালের সহযোগী সম্পাদক নাসির আহমেদ ও অজয় দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরো ৫টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলোঃ নজরুল বীক্ষা, অনুরণন, মেঘের পালক, জনপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদ ও কৃষকের কাব্য শ্রমিকের গান।
নতুন বই :বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপ-বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সোমবার মেলার চতুর্থ দিনে নতুন ১১০টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১১, উপন্যাস ১৯, প্রবন্ধ ২২, কবিতা ১৯, গবেষণা ২, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ৩, মুক্তিযুদ্ধ ২, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ২, চি:/স্বাস্থ্য ২, রম্য/ধাঁধা ৩, ধর্মীয় ১, অনুবাদ ২, সায়েন্স ফিকশন ১ এবং অন্য ১৪টি বই। উল্লেখযোগ্য, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে রবীন্দ নাথ রবীন্দ নাথের মতোই, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অনন্যা এনেছে আলবদর ১৯৭১, মুনতাসীর মামুন, অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে মোহাম্মদ হান্নানের ‘হুমায়ূন আহমেদের ধর্মচেতনা ও মৃত্যুচিন্তা’, আনিসুল হকের ‘ভালোবাসি আশ্চর্য মেঘদল’ ও সুমন্ত আসলামের ‘নিনির সবুজ জ্যোত্স্না’, অনন্যা থেকে এসেছে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘কিছু কি পুড়ে যাচ্ছে কোথাও’, আগামী প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে উপেন্দ কিশোর রায়চৌধুরীর ‘ছেলেদের মহাভারত’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘ইউটোপিয়া’ ও সৈয়দ আবুল মকসুদের ‘ভাষানী কাহিনী’, প্রতীক থেকে এসেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘সায়েন্স ফিকশান সমগ্র’, সুবর্ণ প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে মুনতাসীর মামুনের ‘বীরাঙ্গনা ১৯৭১’ বইটি। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে বের হয়েছে সেক্টর কমান্ডার কাজী নূরুজ্জামানের ‘সোসাইটি এন্ড পলিটিক্স অব বাংলাদেশ’, হাসমত উল্লাহর লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে আমি এবং আমার সময়’।
মেলামঞ্চের আয়োজন :সোমবার মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রযুক্তি বিপ্লব ও মুদ্রিত বইয়ের ভবিষ্যত্’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকাশক করুনাংশু বড়ুয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার, কবি অসীম সাহা এবং কবি মজিদ মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন মিনেসোটা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শামসুল বারি। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী মুস্তফা ওয়ালীদ ও ডালিয়া আহমেদ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, ইয়াসমিন মুশতারী, একেএম শহীদ কবীর পলাশ, প্রিয়াংকা গোপ, নাসিমা শাহীন ফেন্সী এবং রাজিয়া সুলতানা মুক্তি।
আজকের আয়োজন :আজ মঙ্গলবার মেলার মূল মঞ্চে বিকালে অনুষ্ঠিত হবে ‘সারস্বত ড. মুহম্মদ এনামুল হকের সারাত্সার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহাম্মদ দানীউল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মনসুর মুসা, জীনাত ইমতিয়াজ আলী এবং রহমান হাবিব। সভাপতিত্ব করবেন মুস্তফা নূর-উল-ইসলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।