হজ্ব্বযাত্রীদের জন্য দুই ধরনের প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনা
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
হজ্ব যাত্রীদের জন্য দু’টি প্যাকেজ ঘোষণার পরিকল্পনা করেছে সরকার। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর হারাম শরীফ থেকে আবাসস্থলের দূরত্বের উপর ভিত্তি করে কম ও বেশি মূল্যের এই পৃথক প্যাকেজ চালু করা হবে। আগামী হজ্ব মওসুম থেকেই এই সুবিধা পাবেন হজ্বব্রত পালনে ইচ্ছুকরা।
গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া সংসদকে এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল বিরোধী দলবিহীন অধিবেশনের ছিলো পঞ্চম কার্যদিবস।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের হজ্ব যাত্রীদের খরচের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় কম টাকায় বেশি সংখ্যক মানুষকে হজে পাঠানোর কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা-তা প্রতিমন্ত্রীর নিকট জানতে চান মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু হিসাবে প্রতিবছর হজ্ব মওসুমে ভর্তুকি পেয়ে থাকেন। ফলে তাদের খরচ কম হয়। আগামী হজ্ব মওসুমে টাকা কম নিয়ে বেশি সংখ্যায় হজ্বযাত্রী পাঠানোর কোন পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে কম ও বেশি মূল্যের দু’টি হজ্ব প্যাকেজ ঘোষণার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
সরকারি খরচে কাউকে হজে পাঠানো হয় না
নূরুল ইসলাম বিএসসি’র প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারি খরচে কাউকে হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো হয় না। তবে প্রত্যেক বছর হজ্ব ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে একাধিক দলে অন্তর্ভুক্ত করে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তারা সেখানে হাজীদের যাতায়াত, চিকিত্সা সেবা, আবাসন ব্যবস্থা, দাফন, তদারকিসহ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত সার্বিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
দেশে আড়াই লাখ মসজিদ
এম আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৮ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯টি। বেনজীর আহমদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থ বছরে সকল সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ সংস্কার ও মেরামতের জন্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং মন্দির সংস্কার ও মেরামতে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের কোটায় মসজিদের জন্য ৯০ হাজার ও মন্দিরের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বেগম নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি করে অফিস স্থাপনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নামাজ বাধ্যতামূলক প্রসঙ্গে
নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকার কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা—সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, যথাসময়ে নামাজ আদায় করা মুসলমানের জন্য ফরজ। নামাজে গাফিলতির কারণ ব্যক্তিগত। ব্যক্তি, অভিভাবক ও সমাজ সচেতন হলে এই গাফিলতি হ্রাস পাবে। তবে সরকার মুসলিম নাগরিকদের নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উত্সাহ প্রদান করে থাকে।