বিচার বন্ধে হাজার কর্মী জীবন দেবে

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘প্রহসনের ট্রাইব্যুনাল’ বলে আখ্যা দিয়ে সেটিকে ভেঙ্গে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজিত দলীয় সমাবেশে জামায়াতের নেতারা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে আটক নেতাদের মুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে হাজার হাজার কর্মী জীবন দেবে। তবু সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া দেড় ঘন্টার এই সমাবেশে জামায়াতের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন। বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, ঢাকা মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মশিউর আলম ও লুত্ফুর রহমান এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত। সঞ্চালক ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া। জামায়াতের পক্ষ থেকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন মতিঝিলে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের তিন নেতাকর্মী নিহত ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দলের আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর জামায়াত। সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়ে এ দেশের নাগরিকদের বিচার করে জাতির কলঙ্ক মুছতে পারবেন না। আমাদের নেতারা নিরপরাধ। স্কাইপে সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার পর এ বিচার আর চলতে পারে না। অবিলম্বে জামায়াত নেতাদের মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াত একটি নিবন্ধিত ও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল। দুই বছর ধরে আমাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের অফিস খুলে দিতে হবে। না হলে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অফিস খুলতে যাব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের চার বছরের মধ্যে তিন বছরই আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালানো হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা যেভাবে নাগরিকত্বের সনদ নিয়ে দেশে বসবাস করে আমরাও সেভাবে বসবাস করছি। কিন্তু সরকার কেন আমাদের সাংবিধানিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে? সেলিম উদ্দিন বলেন, একটা রায়ই শেষ নয়। রায়ের পরে রায়, এর পরও বহু প্রতিক্রিয়া আছে। প্রতিক্রিয়া মাত্র শুরু হয়েছে। বিষয়টি হালকাভাবে দেখলে চরম পরিণতি অপেক্ষা করছে। বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেয়া বন্ধ না হলে দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বলব, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবদিক বিবেচনা করে বিচারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। এক বিচার করলেই দিন শেষ হয়ে যাবে না। আপনাদেরও এ দেশে থাকতে হবে, আমরাও থাকব, সবাই থাকবে। সুতরাং বিভেদ সৃষ্টি করে জাতিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবেন না।’ তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গোটা দেশের মানুষের নয়নমণি। তার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধবে। জামায়াত- শিবিরের কর্মীরা দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটাবে। সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, কসাই কাদের আর আবদুল কাদের মোল্লা এক জিনিস নয়। কসাই কাদেরের অপকর্মের দায় যদি আবদুল কাদের মোল্লার ওপর চাপানো হয়, তাহলে আসমান থেকে আল্লাহর গজব নামবে আর জমিনে আমরা বসে থাকব না। নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বুকে-পিঠে ‘সাঈদীর কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’- স্লোগান লিখে সমাবেশে অংশ নেন। সবার মুখে ছিল ‘অবৈধ ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান। সমাবেশ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শাপলা চত্বরের পূর্ব পাশে অবস্থান করে। সমাবেশ শেষে বেলা ১১টায় শাপলা চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়। দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, নয়াপল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে সেটি শেষ হয়।