স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন

অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ মাত্রই স্বাধীনতা প্রিয়। কিন্তু এ স্বাধীনতা খুব সহজলভ্য নয়। বহু কষ্ট ও সংগ্রামের ফলে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়। স্বাধীনতা লাভ করা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার। তবে স্বাধীনতা রক্ষায় অধিক সতর্ক, সচেতন এবং সৃষ্টিশীল হতে হয়। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। স্বাধীনতা অর্জন করা যে কোনো পরাধীন জাতির পক্ষে অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করা আরো কঠিন কাজ। স্বাধীনতা অর্জন করতে শক্তি, সাহস, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বহু রক্তপাতের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, শক্তিমান শাসকগোষ্ঠী পদানত জাতিকে কখনোই স্বাধীনতা দান করে না; বহু ত্যাগ ও রক্তপাতের মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হয়। তবে স্বাধীনতা অর্জিত হলেই চিরস্থায়ী হয় না। তা যে কোনো সময় হরণ হতে পারে। তাই স্বাধীনতা অর্জনই মূল উদ্দেশ্য নয়। একে সমুন্নত রাখাই মুখ্য উদ্দেশ্য। তাই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য বেশি সংগ্রাম ও শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে আরো প্রয়োজন প্রযুক্তি, কৌশল, ঐক্য ও ন্যায়বোধ। সকলের হিংসাত্মক দৃষ্টি থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ দেশের ভেতরে ও বাইরে শত্রুর অন্ত থাকে না। স্বাধীনতা বিরোধী শত্রুরা অদৃশ্যভাবে দেশের ক্ষতি করে থাকে। ফলে অনেক অপকৌশল ও আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা তথা স্বাধীনতা সূর্যকে আগলে রাখতে সম্মিলিত কর্মপ্রেরণা, চিন্তাধারা ও শৃঙ্খলাবোধকে কাজে লাগাতে হয়। পরাধীনতার গ্লানি মোচন করতে যেমন ত্যাগ ও আত্মদান অপরিহার্য। তেমনি স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে জ্ঞান, বুদ্ধি, শিক্ষা ও সদ্বিবেচনাকে কাজে লাগানো একান্ত অপরিহার্য। মূলত যথেষ্ট সচেতন ও সংঘবদ্ধ না হলে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে হয় এবং সদা সর্তক থাকতে হয়। স্বাধীনতাকে অর্জন করতে যেমন নির্ভীক যোদ্ধা হয়ে অস্ত্র হাতে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। তেমনি স্বাধীনতা রক্ষায় জ্ঞান ও বিবেককে কাজে লাগিয়ে একতাবদ্ধভাবে সর্তক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তাই স্বাধীনতার মর্ম উপলব্ধি করে একে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য মনে করা উচিত।