প টু য়া খা লী বি শ্ব বি দ্যা ল য়

নেপাল থেকে পড়তে এসেছে ওরা

দেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের দিন দিন উত্সাহ বাড়ছে। গত ৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিনের জন্যও ক্লাস এবং পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সুদূর নেপাল, ভারত ও মায়ানমার থেকে ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে এসেছিল অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়। এরা হলেন- ডিভিএম অনুষদের এলিনা, প্রিতি কুমারী, উষা যাদব ও সুমিত সিংহ, সিএসই অনুষদের অজয় শাহ এবং নিউট্রেশন এ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের পূজা কুমারী চৌধুরী ও পুষ্টি বিজ্ঞান অনুষদের ২০১৩ সেশনের প্রমোদ যাদব নীতিশ খরকা। স্বপ্নের ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে পেরে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। একাধিক নেপালী নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বাংলাদেশের স্বপ্নের ডিজিটাল ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে পেরে তারা আনন্দিত। সিএসই অনুষদের নবীন শিক্ষার্থী অজয় শাহ বলল, আমরা ওয়েবসাইটে দেখেছি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকের সবুজ আর সবুজ গাছ-গাছালির ছবি, প্রশাসনিক ভবন, অন্বেষালয়, কৃষিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ফুলের বাগান। একারণে এই দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসে ভর্তির জন্য আগ্রহী হই। এখানে ভর্তি হতে পেরে আমিসহ আমার নেপালি সহপাঠীরা আনন্দিত। ডিভিএম অনুষদের প্রিতি কুমারী বলল বিভিন্ন ওয়েবসাইট জার্নাল ও উইকিপিডিয়ায় পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও শান্ত পরিবেশের খবর শুনে আমরা এখানে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে ভর্তি হয়েছি। এখানে ভর্তি হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বন্ধুসুলভ আচরণও আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। ডিভিএম অনুষদের এলিনা বলেন, ক্যাম্পাসের আনন্দময় জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সবসময়ের সঙ্গী হল বন্ধুরা। যদিও নিজ দেশের স্কুল-কলেজের পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে প্রথম কয়েকদিন ভিন্ন দেশে ভিন্ন পরিবারে এসে আমার মন কেমন কেমন করছে। তবে একই অনুষদের প্রিতি কুমারী, উষা যাদব ও সুমিত সিংহ বলল, প্রকৃতিতো আসলে শূন্যস্থান পছন্দ করে না, তাই বন্ধুদের শূন্যতাও বেশিদিন থাকে না। আমরা হাজার হাজার মাইল দূর থেকে একটি নতুন পরিবারে এসেছি তাতে কি? এত ছাত্র-ছাত্রী এর মধ্যে কারো না কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব তো হবেই। ক্লাসের ফাঁকে কি করো? নিউট্রেশন এ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের পূজা কুমারী চৌধুরী, নীতিশ খরকা, অজয় শাহ ও প্রমোদ যাদবকে এ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটি হলো আড্ডা। পড়াশোনার তেমন চাপ নেই আমাদের প্রথম দিকে। নতুন দেশের নতুন বন্ধু ও নতুন পরিবেশ পেয়ে আমরা কয়েকজন মিলে দেই জমজমাট আড্ডা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সব চত্বর, টেন্ট, শহীদ মিনার এবং ভাস্কর্যগুলোয় কোথায় আমাদের আড্ডার অন্ত নেই; এ দেশি বন্ধুরা আমাদের সাথে সবসময় হাসি গান আর কৌতুক নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে। ক্লাসে বসেও শুরু হয়ে যায় আমাদের মধ্যে গল্প। কুল-কিনারা বিহীন সেসব কথামালা। বিদেশি নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে এখন প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস। নবীন এসব শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ নওয়াব আলী খান নবীন এসব নেপালী মেধাবী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়ে বলেন, তোমরা অনেক দূর থেকে এখানে পড়তে এসেছ। তোমাদের সবার জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামসুদ্দীন বিদেশি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী ৫ বছর তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক কিছু শিখবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান পূর্বের তুলনায় কমে যাওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। কিন্তু পবিপ্রবির শিক্ষার মান আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল বিদেশি নবীনদের স্বাগত ও লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান।