ই ন্টার ইউনিভার্সিটি ফটো কম্পিটিশন ‘এ ক্স পো জা র’
ওদের চোখে বিশ্ব দেখি
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৭
আমরা সবাই দু’চোখে দেখি। কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ আছেন যারা এর বাইরেও অসাধারণভাবে সবকিছুকে দেখতে পারেন। ক্যামেরার লেন্সে কেটে যায় তাদের দিনমান। কেউ আবার শখের আলোকচিত্রী। তবুও, মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয়! কি অসম্ভব সুন্দর করেই না আমাদেরই চারপাশ ফুটিয়ে তুলেছেন তারা তাদের চোখে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ইন্টার ইউনিভার্সিটি ফটো কম্পিটিশন ‘এক্সপোজার’ এ জমা পড়েছিল চার হাজার ছবি, অংশ নিয়েছিল অর্ধশত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়শ এরও বেশি আলোকচিত্রী। সেরা একশ আলোকচিত্র আর সেই সাথে সন্মাননা ক্যাটাগরিতে আরও শতাধিক, সবমিলিয়ে এই প্রজন্মের তোলা অসাধারণ কিছু ফ্রেমে বন্দী মুহূর্ত নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারিতে চলছে প্রদর্শনী। গত ২৪ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই আয়োজনটি চলবে আগামীকাল ৩১ শে জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটা অবদি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফি ক্লাবের সভাপতি, সেই সাথে এই প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী আসিফ ইকবাল অন্তু ইত্তেফাক ক্যাম্পাসকে বলেন, এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে প্রদর্শনীটি। বলা যায়, প্রদর্শনী ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকচিত্রপ্রেমীদের মাঝে ইতিমধ্যে যে উত্সবের আমেজ দেখেছেন, তাতেই তিনি কৃতজ্ঞ। আর বৈচিত্র্য হিসেবে শুরুর দিন বিশেষ কোনও আয়োজনের পরিবর্তে আগামীকাল শেষদিনই জমকালোভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সবাইকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সারা দেশ থেকে যে সব শিক্ষার্থীরা ছবি তুলছেন, তাদের সৃজনশীলতা আর মেধার স্বাক্ষরটা ফুটে উঠক। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই এ ধরনের ক্লাব বা সংগঠন রয়েছে, নিয়মিত অনেক কর্মশালা বা প্রদর্শনীও হয় সেখানে। তবে আন্তঃযোগাযোগটাও অনেক কম। এই দূরত্ব ঘোচাতে আর নিজেদের অবস্থানটা বুঝে নিতেই এমন উদ্যোগ। এক্সপোজারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এবারের ছবির বিষয়বৈচিত্র্য কেবল প্রকৃতি বা জীবন কেন্দ্রিকই নয়, উন্মুক্ত ছিল অনেকক্ষেত্রে। তাইতো আমাদের প্রতিদিনের জীবনধারার নানা দিকও ফুঠে ওঠে এই প্রদর্শনীতে। সেখানে বাদ যায়নি নিষ্পাপ পথশিশুর হাসি, শেষ বিকেলের আলোয় কারও প্রতিচ্ছবি অথবা পড়ন্ত বিকেলে ছাদে পড়ে থাকা কোনও মইয়ে আলোছায়ার খেলা।
সারাদেশ থেকে জমা পড়া হাজার হাজার ছবির মাঝ থেকে সেরাগুলো বেছে আনার কঠিন কাজটা করতে হয়েছে তিনজন বিচারককে। তারা হলেন, ইউরোপিয়ান প্রেসফটো এজেন্সীর আবির আব্দুলাহ, ম্যাপ ফটো এজেন্সীর হাসান এস চন্দন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও স্থপতি বিকেএস ইনান। আয়োজকদের আরেক তরুণ সদস্য মাজহারুল হক তন্ময় বললেন, সবাই সবার ছবি দেখছে, শিখছে, কথা বলছে! সৃজনশীল দুনিয়ায় নিজের ভাবনা আদান প্রদানের এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কি হতে পারে? তাইতো এবারের মূল প্রতিপাদ্য, ‘এক্সপোর, এক্সপেরিমেন্ট এন্ড ইনজয়’ প্রদর্শনীতে বাছাই একশ ছবির পাশাপাশি চলছে বিশেষ সন্মাননাসূচক বেশকিছু আলোকচিত্র। দারুণ কম্পোজিশনে ফুটিয়ে তোলা এই ছবিগুলো দেখছিলেন তাসমিয়া কামাল প্রমা। স্থাপত্যের এই শিক্ষার্থীর আলোকচিত্রের প্রতি ঝোঁক খুব। নিজের তোলা ছবি এই রকম বড় আয়োজনে প্রদর্শিত হচ্ছে দেখে যারপরনাই খুশি সে।
প্রতিদিনই প্রদর্শনীতে আসছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক তরুণ আলোকচিত্রী কোশিক বলেন, এই প্রদর্শনীতে ব্যতিক্রমের একটা ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটা ইতিবাচক হয়েছে। নতুন নতুন ভাবনার আশ্রয়ে নবপ্রজন্মের হাত ধরেই আমাদের আলোকচিত্র আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাচ্ছে মনে করেন তিনি।
এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রনি ভুঁইয়া, সেও এসেছিলেন তার বন্ধুদের নিয়ে প্রদর্শনীতে। আনুষ্ঠানিকভাবে সেরাদের হাতে পদক তুলে দেয়া হবে প্রদর্শনীর শেষদিন। আর আগেই বলেছি, আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাপনী অনুষ্ঠানটা অনেক জমপেশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই প্রজন্মের মেধাবী এই আলোকচিত্রী অন্তু, ঈশিকা, ঈশিতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে ঢু মেরে আসতে পারেন এই প্রদর্শনীতে। আমরা শিক্ষানবীশদের এইসব আলোকচিত্রের শিল্পের বিচারে নাইবা গেলাম, উত্সাহ দিয়ে এগিয়ে দিতে নিশ্চয়ই পিছপা হব না।