সিলেট-আখাউড়া রেলপথ
ছিনতাই ও মলমপার্টির দৌরাত্ম্য চরমে
কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৩
সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস থেকে স্বর্ণ ছিনতাই করে পালাতে গিয়ে এক ছিনতাইকারীকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গত রবিবার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ছিনতাইকারী ও মলমপার্টির দৌরাত্ম্যে যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছেন। জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট অভিমুখে ছেড়ে আসা ৭১৯ নং আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন লাউয়াছড়া পাহাড়ি এলাকায় ধীরগতিতে অতিক্রম করছিল। এসময়ে ছিনতাইকারী মোস্তফা মিয়া (৩৫) ট্রেনযাত্রী এক মহিলার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় জাতীয় উদ্যানের রেলপথের ধারে অবস্থানরত জনতা ছিনতাইকারীকে আটক করে কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ছিনতাইকারীর বাড়ি ভৈরবের কালিকা প্রসাদ এলাকায়। ঘটনার সময় তার সাথে থাকা আরও দুই ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। এসআই চম্পক আরও বলেন, আটক ছিনতাইকারীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া স্বর্ণের চেইনের একাংশ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাটি রেলপথ এলাকায় বলে ছিনতাইকারীকে রাতেই শ্রীমঙ্গলস্থ রেল পুলিশ থানায় সোপর্দ করা হবে। স্থানীয় যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, এই সেকশনে ছিনতাইকারী ও মলমপার্টি দীর্ঘদিন যাবত্ যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সাসহ জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সুরমা ও জালালাবাদ নামে ৪টি মেইল ট্রেন রাতে চলাচল করে। এসব ট্রেনের বগিতে আলোর কোন ব্যবস্থা থাকে না। ফেরিওয়ালারা বগিতে উঠলে তাদের বাতির আলোয় যাত্রীরা কিছুটা ভরসা পান। নিম্ন-আয়ের লোকজন লোকাল মেইল ট্রেন ভ্রমণ করে। ফলে ছিনতাইকারী ও মলমপার্টির লোকদের দ্বারা তাদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত কোন না কোন ট্রেন থেকে যাত্রীরা হয়রানি ও ক্ষতির স্বীকার হলেও সেটি খুবই কম জানাজানি হচ্ছে।