ভবদহে বাঁধ কাটা নিয়ে উত্তেজনা, একজন গুলিবিদ্ধ

যশোরের ভবদহের টিআরএম প্রকল্প নিয়ে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার চালু করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে গত রবিবার রাতভর ভবদহ স্লুইসগেটের পাশের বাঁধ কেটে শ্রী নদীর সাথে সংযোগ দেয় ভুক্তভোগীরা। এর কিছুক্ষণ পর জোয়ারাধার বিরোধীরা ওই বাঁধ আবার বেঁধে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার সাধারণ মানুষের আশংকা সমস্যার আশু সমাধান না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নদীর বুক পলি জমে উঁচু হয়ে পড়বে এবং অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। আর এমনই এক প্রেক্ষাপটে এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ গত রবিবার রাতে প্রায় দু’শ’ গজ বাঁধ কেটে শ্রী নদী দিয়ে আসা জোয়ার বিল কপালিয়ায় ঢুকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর জোয়ারাধার বিরোধী পাঁচ গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে এসে কাটা বাঁধ বেঁধে দেয়। এ ঘটনা্য় গত সোমবার বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার বিরোধীরা মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া স্লুইসগেটের পাশে এক সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে কোনো মূল্যে বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার চালু প্রতিহত করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে মনিরামপুর উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের আব্দুল হালিম (৪২) ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জোয়ারাধার বিরোধীদের অভিযোগ, বাঁধ কাটতে আসা লোকজনের গুলিতে আব্দুল হালিম গুলিবিদ্ধ হন। বিরোধীদের অন্যতম নেতা উপজেলার নেহালপুর গ্রামের মোবারক আলী বলেন, জনগণের প্রতিরোধের মুখে বাঁধ কাটতে আসা লোকজন পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় তারা ছয় রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় হালিম গুলিবিদ্ধ হয়। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আব্দুস ছালেক বলেন, একপক্ষ বাঁধ কেটে দিয়ে চলে যাওয়ার পর অপরপক্ষ এসে তা বেঁধে দেয়। এখানে গুলিবর্ষণ বা সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।