ম্যানইউ’র চেয়ে ভাল দল রিয়াল :রোনালদো
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঘোষণা দিয়েছেন শক্তিমত্তার বিচারে তার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দল পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে আছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বের ম্যাচে আগামী ১৩ তারিখ ইংলিশ এবং স্প্যানিশ লিগের এই দুই জায়ান্ট মুখোমুখি হবে।
২০০৩ সালে ১৮ বছর বয়সে স্পোর্টিং লিসবন থেকে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ম্যান ইউ ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তার গায়ে তুলে দেন ক্লাবের বিখ্যাত সাত নাম্বার জার্সি। দারুণ ছয়টি মৌসুম কাটিয়ে ২০০৯ সালে রেকর্ড আট কোটি পাউন্ডে যোগ দেন আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। মাঝে মাঝেই সংবাদ মাধ্যমে ম্যান ইউ এবং ক্লাব ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্সের প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানাতে ভুল করেননি তিনি। তবে চ্যাম্পিয়ন লিগের নক আউট পর্বের ম্যাচের প্রথম লেগে মাঠে নামার আগে ম্যানইউকে যেন মানসিকভাবে দুর্বলই করে দিতে চাইলেন এই ২৮ বছর বয়সী তারকা। রিয়ালের এই দলটিকে ম্যানইউর চেয়ে বেশী প্রতিভাবান বলে দাবী করেন তিনি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস সব কিছু সুন্দরভাবেই শেষ হবে। দুই দলের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদই এগিয়ে আছে বলে আমি মনে করি। তবে আমাদের সেটা মাঠে প্রমাণ করতে হবে।’ নিজেদের শ্রেয়তর মানলেও ইংলিশ ক্লাবটিকে হারানো যে মোটেই সহজ হবে না সেটাও ভালো বোঝেন এই পর্তুগিজ তারকা, ‘ইউনাইটেড দল হিসেবে সব সময়ই দারুণ ঐক্যবদ্ধ। গত কয়েক বছরেও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা এমন একটা দল যারা কিনা সব সময়ই দারুণ খেলে। প্রতিদিনই তারা তাদের সেরা খেলাটাই খেলতে চায়। আর এ কারণেই সবাই তাদেরকে সমীহ করে। সত্যিই এটা তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ হবে এটা। আর ম্যানইউর মাঠে জেতাটা হবে আরো কঠিন।’ এই ম্যাচটা নিশ্চিতভাবেই রোনালদোর নিজের জন্য বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। কারণ ওল্ড ট্রাফোর্ড ছাড়ার এবারই প্রথম রেড ডেভিলদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাকে এ বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। রোনালদোও স্বীকার করেছেন ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নামার আগের তিনি খানিকটা আবেগাপ্লুত, ‘আমি সব সময়ই তাদের মুখোমুখি হতে চেয়েছি। এটা এমন একটা ম্যাচ হবে যেটা আমি সত্যিই হূদয় দিয়ে অনুভব করবো। ছটি বছর আমি সেখানে কাটিয়েছি। সেখানে আমার বেশ কিছু বন্ধু রয়েছে। সেখানকার মানুষও আমার প্রিয়। এই ম্যাচটা সত্যিই দারুণ আমেজের একটা ম্যাচ হবে আমার জন্য।’
স্যার অ্যালেক্স সম্পর্কে আরো একবার প্রশংসার ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন তিনি, ‘ফুটবলের মৌলিক বিষয়গুলো তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। যখন আমি সেখানে পৌঁছাই তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৮। আমার ক্যারিয়ারকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই তিনি করেছেন। আমার ফুটবল জীবনে নিশ্চিতভাবেই তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার সাথে আমার সম্পর্ক এখনও দারুণ সুন্দর। আরো একবার তার দেখা পাওয়াটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে।’