আপিল নিয়ে বিভ্রান্তি

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টে আসামি যদি খালাস পায় তবেই রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। এদিকে আসামি পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করব।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধিত) আইনের ২১ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো অপরাধে দোষী একজন ব্যক্তি এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডিত একজন ব্যক্তি যে কোনো সাজা ও দণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের অধিকার রাখে। খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকারের আপিলের অধিকার রয়েছে। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ মনে করেন, দণ্ড কমাতে আসামির আপিলের সুযোগ থাকলেও সাজার মাত্রা বাড়াতে আপিলের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত ব্যক্তি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আর খালাস পেলে সরকার তার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। যেহেতু এখানে আসামি দণ্ড পেয়েছে, সেহেতু এক্ষেত্রে সরকার পক্ষের আপিলের সুযোগ নেই। আপিল করতে পারবেন কাদের মোল্লা। তার এই বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান। তিনি বলেন, ছয়টি অভিযোগের মধ্যে একটি থেকে কাদের মোল্লাকে খালাস দেয়া হয়েছে। যে অভিযোগটিতে কাদের মোল্লা খালাস পেয়েছেন, সেই অভিযোগের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইনে বলা হয়েছে, খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। সেটা এক অভিযোগও হতে পারে, আবার পূর্ণ খালাসও হতে পারে।’ ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ইত্তেফাককে বলেন, কাদের মোল্লার মামলায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজার পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত চতুর্থ অভিযোগ থেকে খালাসের আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাই এই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘রায়ে আমি খুশি হতে পারিনি। ট্রাইব্যুনাল কোন বিবেচনায় এই সাজা দিয়েছেন, তা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার।’ অন্যদিকে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তবে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, প্রসিকিউশন দল যদি মনে করে, তাহলে আপিল করতে পারে। সেটা তাদের মতামতের ওপর নির্ভর করে। অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আপিল হয় কোনো মামলার রায়ের বিরুদ্ধে। কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ নেই। আইনে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, শুধু খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করতে পারবে। তারা বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই আইনটিকে সংশোধন করতে পারে।