৩৪৪ জনকে হত্যার দায়ে সাজা হল যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৩৪৪ জন হত্যার দায়ে দণ্ড দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যদিও ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বলেছে, আলোকদী গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় গণহত্যার ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী বলেন, কত জনকে হত্যা করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় তা আমি জানি না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। পাঁচ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৪ এপ্রিল ফজরের নামাজের পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারযোগে তুরাগ নদীর পাড়ে আলোকদী গ্রামের পাশ্চিম পাশে অবতরণ করে। পূর্বদিক থেকে স্থানীয় আলবদর বাহিনীর নেতা আসামি আবদুল কাদের মোল্ল¬া তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ জন সদস্য ও কতিপয় অবাঙালি বিহারীদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় ও যোগসাজশে আলোকদী গ্রাম ঘিরে ফেলে ও নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বাসু মিয়া, জহিরুল হক ওরফে জোরা মোল্ল¬া, জেরাত আলী, ফোয়াদ আলী, শুকুর মিয়া, আওয়াল মোল্ল¬া, ছলে মোল্ল¬া, রুস্তম আলী ব্যাপারী, করিম মোল্ল¬া, জয়নাল মোল্ল¬া, কাশেম মোল্ল¬া, বদরউদ্দিন, বিষু মোল্ল¬া, অজল হক, ফজল হক, রহমান ব্যাপারী, নবী মোল¬্লা, আলামত মিয়া, মোকলেছুুর রহমান, ফুলচান, নওয়াব মিয়া, ইয়াছিন ভানু, লালুচান বেপারী, সুনু মিয়াসহ ৩৪৪ জনকে হত্যা করা হয়।
রায়ে বলা হয়, পাঁচ নম্বর অভিযোগের সঙ্গে তিনি কোনো দলের সদস্য হিসেবে বা ব্যক্তি হিসেবে সরাসরি যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী বলেন, কত জনকে হত্যা করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় তা আমি জানি না। ৩৪৪ জনকে হত্যার অভিযোগে এই শাস্তি হওয়ায় আমরা হতাশ। তবে এ মামলার বাদি ও প্রথম সাক্ষী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর ঢাকা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক মোজাফ্ফর আহমদ খান সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্বলভাবে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এ কারণে কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়নি।