৪ হাজার কোটি টাকা আটকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মার্কিন ডলার বিক্রি করে বেকায়দায় পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এ খাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আটকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। কোন কোন ব্যাংকের টাকা ৬ মাসের জন্য আটকে রাখায় এ ব্যাংকগুলোর লোকসানও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশংকা রয়েছে। দেশে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বা রেমিট্যান্স এর বিপরীতে টাকা সরবরাহ করায় মুদ্রা সরবরাহ বাড়ছে বলে জানা গেছে। প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে সুবিধাভোগীরা টাকা নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকগুলোকে ডলারের বিপরীতে বন্ড দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলারের বিক্রির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে টাকা দেয়া হচ্ছে না। টাকার পরিবর্তে বিল ও বন্ড দেয়া হচ্ছে। বিল ও বন্ড হলো সরকারের ঋণ নেয়ার একটি উপাদান। বিল ও বন্ড বন্দক রেখে সরকার ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। এভাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা এবং প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ৯৬৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখতে পারবে না। একে বলা হয় এনওপি (নিট ওপেন পজিশন)। কোনো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দিন শেষে ১৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হয়। দিন শেষে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে না পারলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা দিতে হয়। দেশে আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ও কমেছে। এতে ডলারের চাহিদাও তুলনামূলক হারে কমে গেছে। কিন্তু রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ। কিন্তু এ সময়ে আমদানি ব্যয় সাত শতাংশ কমেছে। আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই ডলার থাকায় বাজারে ক্রেতা ব্যাংকের সংখ্যা কমে গেছে। এজন্য ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছরে গত সোমবার পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ৬৬৮ কোটি মার্কিন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে। বেসরকারি ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের পরিবর্তে ৬ মাস মেয়াদি বন্ড ধরিয়ে দেয়ায় তারা লোকসানে পড়েছেন। কারণ ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাচ্ছে সুবিধাভোগীদের তা স্থানীয় মুদ্রায় দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের সংগৃহীত আমানতের অর্থ থেকে রেমিট্যান্সের সুবিধাভোগীদের দেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তার মতে, এক হাজার টাকার তহবিল যোগাড় করতে ব্যাংকগুলোর গড়ে ব্যয় হয় ১০০ টাকার ওপরে। কিন্তু ৬ মাস মেয়াদি বন্ডের মেয়াদ শেষে এক হাজার টাকার বিপরীতে ৩০ টাকার নিচে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিট লোকসান হচ্ছে ৭০ টাকারও উপরে।