গল্প নয় সত্যি

অফিসে ইন্টারনেট ব্যবহারের ৮০ ভাগই অপচয়!

আধুনিক সময়ের কোনো অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না এমনটা ভাবাও এখন বেশ কষ্টসাধ্য। অথচ সামপ্রতিক সময়ে আমেরিকার কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক জানিয়েছেন, অফিসের কর্মীরা ইন্টারনেট বা অনলাইনে যে সময়টুকু কাটান তার শতকরা আশি ভাগই কাটে কোনো ধরনের কাজের কাজ না করে বা সময়ের অপচয় করে। বিশেষ করে, যেসব অফিসে তরুণ কর্মীসংখ্যা বেশি সেসব অফিসে নানা ধরনের নীতিমালা থাকা স্বত্তেও অনলাইনে সময়ের এই অপচয় মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জোসেফ আর্জিন এবং সাউদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জন পিয়ার্সন গেল কয়েক বছর ধরে একাধিক অফিসের কর্মীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য বিশে¬ষণ করে এমনটাই দাবী করেছেন। আর তাদের এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘কম্পিউটার ইন হিউম্যান বিহেভিয়র্স’ নামের একটি সাময়িকীতে। প্রকাশিত এই প্রবন্ধে আর্জিন ও পিয়ারসন বলেন, অধিকাংশ অফিসে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং কর্মীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও কর্মীদের অনলাইনে কাটানো সময়ের শতকরা আশি ভাগ পর্যন্ত সময়ই কাজের বাইরের প্রয়োজনে ব্যয়িত হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানো যে একটি অপরাধমূলক আচরণ অধিকাংশ তরুণ কর্মীর মাঝে এই বোধটিই কাজ করে না। এমনকি এজন্য অনেক অফিসে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেগুলোরও তোয়াক্কা করেন না এই তরুণ কর্মীরা। এদিকে আর্জিন ও পিয়ারসন মনে করেন, এর ফলে অফিসগুলো যে শুধুমাত্র তাদের মূল্যবান সৃষ্টিশীল সময়ই হারাচ্ছে তা নয়, বরং এতে নানারকম আইনী ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী যদি অফিসের ইন্টারনেট ব্যবহার করে পর্নগ্রাফিক কোনো সাইট ভিজিট করে বা বেআইনি লেনদেনে যুক্ত হয় তাহলে তা পক্ষান্তরে প্রতিষ্ঠানটির জন্যও উটকো ঝামেলা বয়ে আনতে পারে। এদিকে একটু বেশি বয়সী কর্মীদের অনলাইনে সময় অপচয়ের ধরণ বিশে¬ষণ করতে গিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, এরা মূলত ব্যক্তিগত ও আর্থিক নানা প্রয়োজনয়েই অফিস ইন্টারনেটের অপচয় করেন। তবে তরুণ কিংবা বয়স্ক কর্মীদের এই সময়ের অপচয় রোধ করতে অফিসে অনলাইন সুবিধা বাদ দেওয়ার পক্ষপাতি নন আর্জিন ও পিয়ারসন। বরং এজন্য কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও নজরদারী আরও জোরদার করার প্রতিই গুরুত্ব আরোপ করেছেন এই দুই অধ্যাপক। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রকাশিত অপর এক গবেষণায় একদল গবেষক এর উল্টো দাবি করে বলেছিলেন যে, কোনো কোনো পেশার ক্ষেত্রে অনলাইনে মুক্ত সময় কাটানো তাদের সৃষ্টিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।