এখনও শোকাচ্ছন্ন ইউনাইটেড

ঠিক ৫৫ বছর আগের কথা। রেডস্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে ইরোপিয়ান কাপের ম্যাচ খেলে ফিরছিল ‘বাসবি বেবস’ ডাক নামের অপরাজেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দল। পুরো দল, এক ঝাঁক সাংবাদিক আর কর্মকর্তাকে নিয়ে ব্রিটিশ ইউরোপিয়ান এয়ারওয়েসের ফ্লাইট ৬০৯ ছিটকে পড়লো মিউনিখ রিয়েম বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে। তিনবারের চেষ্টায়ও উড়তে না পেরে বিধ্বস্ত হয়ে গেল তখনকার দিনের তারকা বোঝাই এই বিমান। পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়ে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারসহ ২৩টি প্রাণ চলে গেল এই দুর্ঘটনায়। কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেন কোচ স্যার ম্যাট বাসবি, পরবর্তীকালের সুপারস্টার স্যার ববি চার্লটনরা। সেই ঘটনার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, আবার নিজেকে বিশ্বসেরা করে তুলেছে; কিন্তু শোকের দাগ শুকায়নি। যেমন অনুষ্ঠানের ৫৫ বছর পূর্তিতে বর্তমান কোচ, আরেক কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলছিলেন, এখনও সেই শোক, সেই দুর্ঘটনা তাড়া করে ফেরে ইউনাইটেডকে। কাল, ৬ ফেব্রুয়ারি ছিল মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনার ৫৫ বছর পূর্তি। ১৯৫৮ সালের এই দিনে প্রয়াত এবং আহত হয়ে চিরতরে ফুটবল থেকে দূরে চলে যাওয়াদের কাল স্মরণ করলো ইউনাইটেড। আর এই স্মরণ অনুষ্ঠানে ফার্গি বললেন নিজের সেই সময়ের স্মৃতির কথা, ইউনাইটেডের ক্ষতির কথা। ফার্গুসন তখন স্কটল্যান্ডের এক অখ্যাত ১৬ বছর বয়সী কিশোর ফুটবলার মাত্র। যে ফুটবলার স্বপ্ন দেখতো, ইউনাইটেডে বাসবির অধীনে খেলার। এই দুর্ঘটনায় একজন ভক্ত হিসেবে প্রবল ধাক্কা খেয়েছিলেন ফার্গি। বলছিলেন, ‘আমি তখন কোনোভাবেই ইউনাইটেডের সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু ব্যাপারটা আমাকে খুবই আহত করেছিল। অনেকের কাছে এটা অনেক আগে ভুলে যাওয়া একটা ঘটনা। কিন্তু আমি প্রতিদিন এই ঘটনার কথা মনে করি। আমার কাছে এটা পুরোনো কিছু নয়।’ কিভাবে ইউনাটেডের সেই ধাক্কার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলেন, তাও বর্ণনা করলেন ফার্গুসন, ‘তখন পত্রিকাগুলোতে বিস্তারিত, একেবারে খুটিনাটিসহ বর্ণনা ছিল। আর আমি পত্রিকা পড়ে, টিভি দেখে সব খেলোয়াড়ের সঙ্গেই যেন পরিচিত ছিলাম। ফলে খুবই দুঃখ পেয়েছিলাম।’ ফার্গুসন মনে করেন, এই ভয়াবহ আঘাত ইউনাইটেডকে সে সময় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু যতোটা ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল, যতো দিনের ধাক্কা লাগার কথা ছিল; তা হয়নি স্যার ম্যাট বাসবির প্রবল চেষ্টায়, ‘সেই ঘটনার ধাক্কা থেকে ইউনাইটেডকে নিয়ে স্যার ম্যাট, জিমি মারফিদের দল যেভাবে দলকে তুলে এনেছিলেন; সেটা অসামান্য এক ব্যাপার। একটা তরুণ দল, যাদের চোখে শুধু স্বপ্ন ছিল; তাদের নিয়ে বাসবি আবার সেরা দল বানিয়েছিলেন।’ উল্লেখ করা যেতে পারে, এই দুর্ঘটনার এক দশকের মধ্যে ম্যাট বাসবি তরুণ দল নিয়ে আবার ইউরোপিয়ান কাপ, প্রথম বিভাগ (বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ), এফএ কাপ, চ্যারিটি শিল্ড জিতে ফেলেন।