সাঁতার ফেডারেশনেও একক প্যানেল

সাঁতার ফেডারেশনের নির্বাচনেও একক প্যানেল দেয়া হলো। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন রফিজ উদ্দিন রফিজ। কেননা গতকাল মনোনয়নপত্র জমা হওয়ার পর দেখা গেল রফিজের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সঙ্গত কারণেই ধরে নেয়া যায় তিনি হতে যাচ্ছেন সাঁতারের পরবর্তী ‘কান্ডারি’। ১৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা হবে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহিনই ছিলেন এই পদে একমাত্র প্রার্থী। কিন্তু তার বিরোধিতা করে কয়েকজন সাবেক মহিলা সাঁতারু প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দাঁড় করাতে এনেছিলেন ফরিদপুর জেলার আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এমবি সাইফকে। এরপর দু’জনের মধ্যে চলছিল দৌড়-ঝাঁপ। বিভিন্ন সূত্রের খবর, ফোরামও দেন-দরবার করেছে কিভাবে সাঁতার ফেডারেশনের নির্বাচনে তাদের মনমতো প্রার্থীদের বের করে আনা যায়। এরই মধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেলের আর্শীবাদ নিয়ে ফোরামের সাথে দফারফা করলেন গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিজ উদ্দিন রফিজ। প্রতিকুল পরিস্থিতিতে পদের মোহ ছেড়ে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন এমবি সাইফ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন নীরবে সরে গিয়ে সহ-সভাপতির লেবেল লাগালেন গায়ে। বাধ্য হলেন আপোষ করতে। সাঁতার সংগঠকরা এই নির্বাচনে দৃশ্যতই সাঁতারুদের মঙ্গল, আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের ভালো করার কথা না ভেবে রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সব নির্বাচনেই ফোরামের ভূমিকা থাকে। ফোরাম এবং সাথে দু’জন সাবেক ফুটবলার ও সাইক্লিং ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তার মতামত ছাড়া ফেডারেশন নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। সাঁতার ফেডারেশনেও তাই হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেয়ার তারিখ ছিল ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। জানা গেছে সেদিন ফোরাম প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে পারেনি বলে তাদের অনুরোধে হরতালের দোহাই দিয়ে একদিন পিছিয়ে গতকাল মনোনয়নপত্র জমা নেয় ক্রীড়া পরিষদ। নির্বাচন কমিশনের সূত্রের দাবি অনেকে দূরদূরান্ত থেকে আসতে পারবে না বলে গতকাল মনোনয়ন জমা নেয়া হয়েছে। যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নতুন মুখ। অভিযোগ উঠেছে তারা সাঁতার কর্মকাণ্ডে ছিলেন না কখনো। এখন সরাসরি কর্মকর্তা হয়ে জানবেন কিভাবে সাঁতার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কোথায় সুইমিংপুল, কতজন সাঁতারু রয়েছেন। জানবেন বাংলাদেশের সাঁতারের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত্। চারটি সহ-সভাপতির মধ্যে রয়েছেন মোল্লা মোঃ আবু কাউসার, মাহবুবুর রহমান শাহীন, আব্দুল মান্নান ও সাবেক সাঁতারু লায়লা নূর বেগম। সাধারণ সম্পাদক রফিজ উদ্দিন রফিজ, যুগ্ম সম্পাদক এক এমবি সাইফ, যুগ্ম সম্পাদক দুই বর্তমান সদস্য আমিরুল ইসলাম। বর্তমান সদস্য রেজাউল হোসেন বাদশা কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন। ১৬টি সদস্য পদ রয়েছে। বর্তমান এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন খসরু হয়েছেন সদস্য, খুলনা থেকে এসেছেন জিএম রেজাউল ইসলাম, এবারও সদস্য থাকছেন সাবেক সাঁতারু নার্গিস আক্তার এ্যানি, নতুন এসেছেন মোখলেসুর রহমান, সদস্য থাকছেন নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস, জ্যোতিন্দ্র নাথ বিশ্বাস, বদিউজ্জামান বুধু, তপন চন্দ্র, নতুন এসেছেন আমজাদ হোসেন ডন, টাঙ্গাইলের সানিয়াত খান বাপ্পা, খোকন সিরাজুল ইসলাম, নতুন এসেছেন আসলাম মোরশেদ, নতুন এসেছেন সেলিম মিয়া, নতুন এসেছেন আব্দুল হামিদ, নতুন এসেছেন রাবেয়া খাতুন, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবার সদস্য হয়েছেন। ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত দুই জন সদস্য পদে থাকবেন। সভাপতি থাকবেন নৌবাহিনীর প্রধান। ১২ ফেব্রুয়ারি সাঁতার ফেডারেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারিখটি পরিবর্তন করে ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।