জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা

প্রতিষ্ঠার অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও একজন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বেদখলে থাকা ১১টি হল এখনো উদ্ধার হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবাসন সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গত বছরের জুলাই মাসে প্রকল্পের ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন সরকার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাকি খরচ করার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যথায় টাকা ফেরত দিতে হবে। একথা কি ভুলে গেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের পুরনো ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায় মেস ভাড়া করে যে কত কষ্টের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। ক্যাম্পাসের আশেপাশে ঠাঁই না পেয়ে কেউ থাকছে ঢাকার বাইরে। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যত্ ও পানির সমস্যা তো আছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ফির সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো লাগছে। এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে শিক্ষার্থীদের কষ্ট সবাই বোঝে, কিন্তু বুঝতে চায় না কেবল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমস্যায় জর্জরিত হয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছে। সর্বোপরি লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অবস্থা গৃহহীন একটা পরিবারের মতো হয়ে গেছে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি ছাত্রীহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। যত দ্রুত শেষ হয় ততই মঙ্গল। বেদখলে যে পুরনো হলগুলো রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে ভেঙ্গে সেখানে নতুন হল নির্মাণ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে হল উদ্ধার সময়ের ব্যাপার মাত্র। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। যত দ্রুত সম্ভব হল উদ্ধার কিংবা নতুন হল নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান করা হোক। সাধন সরকার, শিক্ষার্থী, মাস্টার্স, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা