রেলের সাড়ে চার হাজার একর জমি বেদখল
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
আধুনিক নগরীতে রাস্তার পরিমাণ মোট আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ থাকার কথা ঢাকায় তার চেয়ে ১৭ ভাগ কম আর গত বছরের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬৬টি করে নতুন গাড়ি রাস্তায় নেমেছে। অপরদিকে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক সংসদকে এসব তথ্য জানান। বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগ মন্ত্রী জানান, আধুনিক নগরীতে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকা নগরীতে আছে মাত্র ৭ থেকে ৮ ভাগ। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্যের জন্য উপযুক্ত পরামর্শক দিয়ে সমীক্ষা করা প্রয়োজন, যা আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। বর্তমানে রাস্তার আয়তনের তুলনায় কী পরিমাণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। তবে গত বছরের রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকা শহরে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি মোটারসাইকেলসহ ১৬৬টি গাড়িকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। তুলনায় যে পরিমাণ রাস্তা থাকার প্রয়োজন ঢাকা শহরে রয়েছে তার চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।
আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের কোনো ভাড়া বাড়ানো হয়নি। বেগম নাসরিন জাহান রত্নার প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগ মন্ত্রী জানান, বিআরটিসি’র গাড়িবহরে এক হাজার ৪১৪টি বাস এবং ১৬২টি ট্রাক রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ১৪৪টি বাস চলাচল করছে। আর চলাচলের অনুপযোগী বাসের সংখ্যা হচ্ছে ২৭১টি। বর্তমান সরকারের সময় বিআরটিসি বহরে ৮২০টি নতুন বাস যুক্ত হয়েছে।
বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে ২১ হাজার ৫৭১ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত চার বছরে বিভিন্ন শ্রেণির সড়কে ৮৬৭ কিলোমিটার নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। আর এতে ব্যয় হয়েছে চার হাজার ৪৭৫ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এবিএম আশরাফ উদ্দিনের (নিজান) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বিভিন্ন সড়কে প্রায় ৩৭২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ১০টি প্রকল্পের আওতায় এসব রাস্তা চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক সংসদকে জানান, রেলওয়ের অবৈধ দখলীয় রেলভূমির পরিমাণ চার হাজার ৪৮৬ দশমিক ৬৮ একর। পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ৭৮ দশমিক ১৫ এবং পূর্বাঞ্চলে তিন হাজার ৪০৮ দশমিক ৫৩ একর। তিনি আরও জানান, নিয়মিত উচ্ছেদ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবৈধ দখলীয় ভূমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে। গত দুই বছরে ১৪৩ দশমিক ৫২ একর রেলভূমি উচ্ছেদের মাধ্যমে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১৬২ দশমিক ৯৭ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ দশমিক ৫৫ একর।
তিনি আরও জানান, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কিছু কিছু জমি পুনরায় অবৈধ দখলদারদের নিকট চলে যাচ্ছে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাধাহীনভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হলে একটি গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে সফলতা পাওয়া যাবে। মো. শফিকুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। তাছাড়া ২২টি ট্রেনের চলাচলের রুট বাড়ানো হয়েছে।