নামে-বেনামে কিছু আবাসন কোম্পানি রাজধানীর নিচু জমি ভরাট করছে
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
রাজধানীর চারদিকে নিচু জমি নামে-বেনামে কিছু আবাসন কোম্পানি ভরাট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কোম্পানিকে এ ধরনের আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সরকারের সর্বাত্মকভাবে সচেষ্টা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান সংসদকে একথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে বেগম সুলতানা বুলবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি আরও জানান, রাজধানীতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য বর্তমানে বিদ্যমান খালগুলো সচল রাখা হয়েছে। অতিবৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে ও পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে সরকার রাজউকের আওতাধীন এলাকার জন্য ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করেছে।
তিনি জানান, ড্যাপের চিহ্নিত জলাশয় ও জলাধার এবং ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী সিএস ও আরএস নকশায় চিহ্নিত খালগুলো অবৈধভাবে যেসব হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক ভরাট করা হচ্ছে সে সকল প্রকল্প উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রিয়েল অ্যাস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলে সংযোজনপূর্বক রাজউকের আওতাধীন এলাকায় মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নম্বর আইন)-এর সিডিউল ‘মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উম্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৩৬ নম্বর আইন)’ অন্তর্ভুক্ত করে রাজউকের চারজন ম্যাজিস্ট্রেটকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা অর্পণ করার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
আমিনা আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সহজশর্তে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে নগরে বসবাসরত নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করে বরাদ্দ প্রদানের চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে। এলক্ষ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে সরকারি অর্থায়নে একটি প্রকল্প এবং ভাসানটেকে স্ব-অর্থায়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করা যায় বর্তমান সরকারের মেয়াদেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
নূরুল ইসলাম সুজনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশব্যাপী এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থাপনার সংখ্যা হচ্ছে ৫৪ হাজার ৪৫৯টি। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদফতরের অধীনে ১৬ হাজার ১৫৯টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে ৩৮ হাজার ১৩৫টি, রাজউকের অধীনে ৫০টি, চউকের ৩৮টি এবং কেডিএ-এর অধীনে ৪৯টি। এছাড়াও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে ১২টি, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধীনে ৫টি এবং স্থাপত্য অধিদফতরের একটি স্থাপনা রয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানীর ওপর চাপ কমানোর জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা শহরের চারপাশে একাধিক উপশহর গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপশহর প্রকল্পগুলোতে প্লট ও ফ্ল্যাটের সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি বিভাগীয় এবং জেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা তৈরির জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এলক্ষ্যে ৭টি বিভাগীয় শহর এবং ৯টি জেলা শহরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অনেক উপজেলাতেও আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজধানীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এলক্ষ্যে এই মহানগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা, আঞ্চলিক পরিকল্পনা ও মাঝারি শহর অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। নগরীর ট্রাফিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ এবং আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা প্রসারে সমন্বিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে একটি অত্যাধুনিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীর পাশে ঢাকা জেলার ধামরাই, মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলায় ৩টি স্যাটেলাইট সিটি তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সিটিগুলোর সাথে রাজধানীকে সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সংযোগ সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।