বুড়িগঙ্গা শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ দূষণমুক্ত করতে নয়া প্রকল্প

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে সঞ্চিত পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসরাণ পাইলট প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নের পরও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নদীর পানি দূষণমুক্ত করা যায়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২শ ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ (আংশিক) নদী থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং পানি দূষণমুক্তকরণ’ নামে অপর আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে আমেরিকা ও ইউরোপ টেকনোলজি ব্যবহার করে নদীর পানি দূষণমুক্ত সম্ভব হবে। যেমন স্কেভেঞ্জার মেশিন ও মাল্টিপারপাস ড্রেজার ক্রয় করে তা পরিচলনা করা হলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর বর্জ্য অপসারণ ও পানি দূষণমুক্ত করা যাবে। এ ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, কেবল বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা বা তুরাগ নদী নয়, চট্টগ্রামর কর্ণফুলীসহ দেশে যে সমস্ত নদী দূষিত সে নদীগুলোকে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে দূষণ রোধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, নদী দূষণমুক্ত করা এক বা দুই বছর সময়ের কাজ নয়। এটি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। লন্ডনের টেমস নদী দূষণমুক্ত করতে ৩৮ বছর লেগেছে। ভারতের যমুনা নদী ৩০ বছর ধরে দূষণমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ যমুনা নদীকে দূষণমুক্ত বলে ঘোষণা করেনি। সরকার সবেমাত্র নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যে সরকার বা যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন এ কাজ থেকে পিছিয়ে না যায়। প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটি ২০১১ সালের জুন মাসে যথাসময়ে শেষ হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় পরিবেশ দপ্তরের অর্থায়নে এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটি ১৬ কোটি টাকার মধ্যে সমাপ্ত করা হয়েছে। বাকি অর্থ পরিবেশ অধিদপ্তরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লি¬উটিএ)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় বুড়িগঙ্গা নদীর ৩ কিলোমিটার ও তুরাগ নদীর ১ কিলোমিটার নদী থেকে ৮ কোটি ৮৭ লাখ ঘনমিটার পলিথিনসহ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।