আবুধাবিতে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪২
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দেশের বিভিন্নস্থানে চলছে শোকের মাতম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে কান্না যেন থামছে না। এ নিয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
লক্ষ্মীপুর\ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন গ্রামের জালালউদ্দিনের বাড়ির রুহল আমিনের একমাত্র ছেলে ফারুক হোসেন। ছেলে হারিয়ে ফারুকের পরিবারসহ ওই এলাকায় গত দুইদিন ধরে চলছে শোকের মাতম। ফারুকের আত্মীয় স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান জানান, ভিটামাটি বিক্রি করে ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ফারুককে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম ছয় মাস সে আকামা পায়নি। এ পর্যন্ত সে কোন টাকা পয়সা দিতে পারেননি। ফারুকের লাশটি দ্রুত বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করে এ পরিবারকে সহযোগিতা করার দাবি জানান তিনি।
হোমনা (কুমিল্লা)\ আবুধাবীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আলীরচর ও হিরাপুর গ্রামে। এদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্ত্রী, সন্তান, মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীর কান্নার রোল যেন থামছে না। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার আলীরচর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে। গত রবিবার বিকালে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে টেলিফোনে কথা হয়। তার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে শিগগিরই বাড়ি আসবে বলে তার স্ত্রীকে জানায়। নিহত আনোয়ারের তিন কন্যার কান্নায় অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নিহত হাবিবুর রহমানের (২৬) বাড়ি উপজেলার হিরাপুর গ্রামে। সে মালু মিয়ার ছেলে। বছর দুয়েক আগে আবুধাবীতে গিয়েছিল।
নেত্রকোনা\ আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে উজ্জল মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার রপগঞ্জ গ্রামে। উজ্জলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত উজ্জলের বৃদ্ধ মা জাহেরা খাতুন বুক চাপড়ে আহাজারি করে বলেন, আমার সব শেষ অইয়া গেছে। বাবা দরিদ্র কৃষক রোজ আলী পাগলের ন্যায় প্রলাপ বকছিলেন। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলছিলেন, ‘সংসারে সুখের লাইগ্যা পোলারে (ছেলে) বিদেশ পাডাইছিলাম। কিন্তু সুখ আর আমার কপালে আইল না। বাবার সঙ্গে উজ্জলের সর্বশেষ কথা হয় গত রবিবার দুপুরে। রোজ আলীর চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে উজ্জল ছিল ছোট। গত দুই বছর আগে ১১ কাঠা জমি বিক্রি করে চার লাখ টাকা খরচ করে সে আবুধাবিতে যায়।