আড়াইহাজারে বোরো আবাদে বিপর্যয়

আড়াইহাজার উপজেলার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। নিরন্তর লোকসান গুনতে গুনতে তারা অতিষ্ঠ। মূলত শাক-সবজি চাষে কৃষকরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এতে লাভ বেশি। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কমেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৯৬ হে: জমি। এ লক্ষ্যে উপজেলার ৩০টি ব্লকে কৃষকদের বোরো আবাদের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকরা বোরো ধান রোপণের কাজ শুরু করলেও তাদের চোখে-মুখে হতাশা। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদে সফলতা না পাওয়ার আশংকা করছেন। ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা এখন নির্ধারণ করা যায়নি। গত বছর ১০ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এতে ধান উত্পাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭৮১ টন। কিন্তু এবার উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা সন্দেহ। কুয়াশার কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আবাদ করতে পারছে না। প্রান্তিক চাষিদের অভিযোগ: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সারের দাম বৃদ্ধি, সেচ চার্জ বৃদ্ধি, হাল চাষের ট্রাক্টরের ফি বৃদ্ধি ও সর্বোপরি কৃষিকাজে বেশি টাকা দিয়েও সময় মত শ্রমিক ও চারা মিলছে না। অনেকগুলো কারণে এ বছর বোরো আবাদ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ফতেপুর ইউনিয়নের নৈকাহন গ্রামের মৃত: ওয়াজউদ্দিনের ছেলে প্রান্তিক কৃষক মোঃ আলাউদ্দিন জানান, এবার বোরো ধান লাগামু না। খরচ বেশি পোষাইব না। লস অইবো। কুয়াশার লাইগা অনেক জালা (চারা) নষ্ট অইয়া গেছে। তাই জালার (চারা) দাম বেশি। এক কানি (৩০শতাংশ) জমিতে ২৫০০ টাকার জালা লাগবো। ৪ বার আল দিতে (হাল চাষ) টেরাক্টর মালিকরে দিতে অইব ১২০০ টাকা। ১৫০০ টাকার সার লাগবো। গতবার পানি সেচের বিল ১০০০ টাকা থাকলেও এইবার ১৫০০ টাকা। কয়েকবার নিড়ানি লাগে। নিড়ানি বাবদ কমপক্ষে ৩০০০ টাকা। ১০০০ টাকার কীটনাশক। জমিতে চারা লাগানি ১০০০ টাকা। পাকা ধান ধাইয়া (কাটতো) আনতে ২০০০ টাকা। সবশেষে ধান মাড়াইতে ১০০০ টাকা সহ মোট খরচ পড়বো ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এক কানি জমিতে ধান করতে ১৫ হাজার টাকা খরচ লাগে। ধান পামু মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মণ। খরচের টাকা উঠবো না। খামু কি? ঋণের টাকা পরিশোধ করমু কি দিয়া। অনেক জমিতে পতিত থাকবে: এবার কয়েকদফা শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঘন কুয়াশায় ৩০টি ব্লকের অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে বীজতলা তৈরির পর্যাপ্ত সময়ও না থাকায় অনেক কৃষক এবার জমি পতিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলার বিনাইরচর এলাকার কয়েকজন চাষি জানান, যাদের কিছু কিছু বীজতলা ভালো আছে, তারা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে কিছুটা বিক্রি করবে। যারা বীজতলা সংগ্রহ করতে পারবে না তাদের জমি পতিত থাকবে। সেচ পাম্পের ঘর বন্ধ: বোরো আবাদ কম হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক এবার বোরো স্কীমে সেচ দেয়ার কাজ বন্ধ রেখেছে। তাদের টার্গেট পূরণ না হলে পাম্প চালু করবে না। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল কাদির জানান, বর্তমানে আড়াইহাজারে চারার সংকট ডিজেল সংকট, কল-কারখানার দূষিত বর্জসহ কৃষকদের অনীহার কারণে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পরণ নাও হতে পারে। তবে আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকবে না।