সংসদীয় সীমানার খসড়া প্রকাশ
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪২
প্রশাসনিক সুবিধা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বিবেচনায় এনে জাতীয় সংসদের তিনশ’ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনঃনির্ধারণের খসড়ার উপর দাবি-আপত্তি জানানোর জন্য আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে করা আপত্তি বা পরামর্শের উপর শুনানি অনুষ্ঠানের পর উত্থাপিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী শেষে নির্বাচনী এলাকার জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।
গতকাল বুধবার ইসি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ সংসদীয় সীমানা খসড়া প্রকাশ করেন। এর আগে কমিশন সভায় সংসদীয় সীমানার খসড়া অনুমোদন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার খসড়ার গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশের ৮-এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক নির্বাচনী এলাকাসমূহের সীমানা পুনঃনির্ধারণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ধারা ৬-এর উপ-ধারা (২) অনুসারে প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যার বিভাজনকে যতদূর সম্ভব বিবেচনায় রেখে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে ধারা ৬-এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে।
কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, সীমানা পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলার ২০০৮ সালে নির্ধারিত মোট আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা, নির্বাচনী এলাকাসমূহের পূর্বে নির্ধারিত সীমানা যতদূর সম্ভব বহাল রাখা, সংসদীয় আসন জেলাভিত্তিক বণ্টন এবং এক জেলায় অবস্থিত সংসদীয় আসনের এলাকা অন্য জেলায় সম্প্রসারণ না করা, যেখানে সম্ভব উপজেলা অবিভাজিত রাখা, যতদূর সম্ভব ইউনিয়ন/সিটি/পৌর ওয়ার্ড একাধিক সংসদীয় আসনের মধ্যে বিভাজন না করা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা জনগণের যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সিইসি বলেন, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আগামী ১০ মার্চের মধ্যে কোন আসনের পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর তার লিখিত আপত্তি ও পরামর্শ পেশ করতে পারবেন। তবে আপত্তি বা পরামর্শ এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদ্ধতি সংক্রান্ত হতে হবে এবং আপত্তি বা পরামর্শ সংক্রান্ত দরখাস্ত ৫ প্রস্থ দাখিল করতে হবে।
সিইসি জানান, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা পর্যায়ের আসনসংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। যে আসনে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল, সেগুলোর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া সংসদীয় সীমানায় বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আনা হয়নি।
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বর্তমান কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমি আশাবাদী মানুষ। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্রাচন করতে সক্ষম হবো। আমাদের এখানে অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ রয়েছেন। তারা জনগণের নার্ভ বোঝেন। জনগণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবো আশা করি।’
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের নির্বাচন কমিশন ১৩০টি আসনের সীমানা উলট-পালট করেছিল। ওই সময় জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দেয়ায় এ নিয়ে সারাদেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমান কমিশন এবার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ৮৭টি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করলো।