পান রপ্তানি নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০৮
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি পানে ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়ার অস্থিত্ব পাওয়া নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ‘স্যালমোনেলা’ নামক এ ব্যকটেরিয়া মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পানের প্রধান বাজার সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এছাড়া পাকিস্তানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বাংলাদেশের মানসম্পন্ন পানের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পান রপ্তানি করে। বাংলাদেশের রপ্তানি পানে ব্যাকটেরিয়া থাকায় ইইউ’র বাজারে রপ্তানি নিষিদ্ধ হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা পানের বাজারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিকর এই স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া পানের সাথে ইউরোপে প্রবেশ করায় ইতিমধ্যে তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে জানিয়েছে। ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে দাবি জানিয়েছে।
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সমপ্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে করণীয় ঠিক করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সংগঠন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (্এনবিআর) সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আশু পদক্ষেপ হিসেবে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যকটেরিয়া পরীক্ষণের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার শর্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। এছাড়া পান পাতা কোন পর্যায়ে ব্যকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে তা নির্ধারণ করার পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে বৈঠকে জানানো হয়, সব এলাকার পানে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া হয় না। কয়েকটি এলাকায় এই ব্যাকটেরিয়া থাকে। কোন কোন এলাকায় পান এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, এর প্রতিকার কিভাবে করা যায় এবং এর প্রকৃত কারণ কী তা নির্ধারণ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে। পান রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় সনদ ইস্যু করে থাকে। এখন থেকে সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে তা ভালভাবে যাচাই করে দেয়া হবে।
বিসিএসআইআর এর সনদ ছাড়া কোনভাবেই ইউরোপের দেশগুলোতে পান রপ্তানি করা যাবে না। সেই সাথে পান রপ্তানিকারকরা যে কোন স্থানের পান অবাধে রপ্তানি করতে পারবেন না। কণ্ট্রাক্ট ফার্মিং - এর পান ছাড়া অন্য পান রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক সমিতি নিশ্চিত হয়ে সনদ প্রদান করবেন। এছাড়া ইইউ’র চাহিদামত কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের নেয়া পদক্ষেপ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পান রপ্তানি হলেও এখনো এই পন্যটির কোন এইচ এস কোড (পণ্য পরিচিতি কোড) নেই। আবার অনেকে সব্জির সাথে পান রপ্তানি করছে ফলে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে না। আজ পর্যন্ত কী কারণে এই ব্যাকটেরিয়া পানে বাসা বাঁধে তা নির্ধারণ করতে না পারাকে বড় ব্যার্থতা বলেও তারা মনে করছেন। আবার এ জন্য কোন পক্ষই এককভাবে দায়িত্ব নিতে নারাজ। ফলে এই সমস্যা আশু সমাধানা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রপ্তানিকারকরা।