অর্থ সংকটে আখ চাষিদের পাওনা পরিশোধ হচ্ছে না
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০৮
দেশের মিলগুলোতে উত্পাদিত ৫শ’ ৭৫ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ১৫ হাজার টন অবিক্রিত রয়েছে। চিনি শিল্প করপোরেশন আখ চাষিদের বিক্রিত আখের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না। চরম অর্থিক সংকটে পড়েছে করপোরেশন। শুধু আখ চাষিদের আখের দামই নয়। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মিলগুলোর কাছে চাষিদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় একশ’ কোটি টাকা। প্রতি দিনই চাষিদের পাওনা টাকার পরিমাণ বাড়ছে।
এদিকে আখের অভাবে রংপুর চিনিকলের উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ মাসে আরো কয়েকটি চিনিকল আখের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে করপোরেশনের কর্মকর্তারা আশংকা করছে। করপোরেশনের প্রধান ইক্ষু উত্পাদন ও সংগ্রহ কর্মকর্তা মোঃ সোলাইমান জানান, চলতি মাড়াই মৌসুমে (২০১২-২০১৩) করপোরেশনের অধীনে ১৫টি চিনিকলে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ২৯ হাজার ৭৫ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে রাজশাহী, নাটোর ও নর্থবেঙ্গল চিনিকলে মৌসুমের আখ মাড়াই শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য মিলগুলোও উত্পাদন শুরু করে। বর্তমান মাড়াই মৌসুমে মিল জোন এলাকায় এক লাখ ৫৯ হাজার ৬শ’ ৭৩ একরে আখ ছিল। মিল কর্তৃপক্ষ ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯শ’ ৫৬ টন মাড়াই যোগ্য আখ পাবে বলে আশা করে। ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ ৮৬ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৭০ হাজার ৭শ’ ৫০ টন চিনি উত্পাদন হয়েছে। এবার একশত টনের বেশি চিনি উত্পাদন হবে বলে করপোরেশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন।
টাকার অভাবে আখ চাষিদের বিক্রিত আখের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না চিনিকলগুলো। চাষিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। টাকার জন্য মিলের দুয়ারে ধর্না দিতেছে। সময়মত টাকা না পাওয়ায় আগামীতে আখ চাষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনিতেই গুড় তৈরিকারকরা চাষিদের কাছ থেকে মিলের দামের চেয়ে চড়া দামে আখ কিনে নিয়ে যায়। ফলে মাঠে আখ থাকতেও চাষিরা মিলে আখ বিক্রি করছে না। বর্তমানে মিল গেটে প্রতি মণ আখের দাম দেয়া হয় একশ’ ৩ টাকা। বাইরের ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৯৬ টাকা ৭০ পয়সা।
করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, করপোরেশন দেশের মিলগুলোতে উত্পাদিত ৫০ হাজার টন চিনি রফতানির অনুমতি পেয়েছে। বিক্রয় শাখার প্রধান মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চিনি রফতানির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। রফতানি করতে পারলে অর্থ সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান।