তিউনিসিয়ায় বিরোধী নেতা খুন দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২৩
তিউনিসিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা চোকরি বেলাইদকে গত বুধবার হত্যা হয়েছে। বেলাইদ নিহত হবার পর ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি। নির্বাচন না পর্যন্ত এই সরকার দেশ শাসন করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জেবালি বলেছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত টেকনোক্র্যাটরা সরকার পরিচালনা করবে। সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী পরিষদে কোনো মন্ত্রী থাকবেন না, টেকনোক্র্যাটরাই সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বুধবার রাজধানী তিউনিসে বেলাইদ কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর পর ঘাতকের গুলিতে নিহত হন। তিনি ঘাড়ে এবং গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ভাই ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেলাইদ ছিলেন তিউনিসিয়ার মধ্যপন্থি ইসলামিক নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী পপুলার ফ্রন্ট পার্টির নেতৃস্থানীয় ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ। সরকারের স্পষ্টভাষী একজন সমালোচকও ছিলেন তিনি।
চোকরি বেলাইদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে তিউনিসিয়া। শহরে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। প্রেসিডেন্টের শান্ত থাকার আহবান উপেক্ষা করে সরকার পতনের দাবিতে রাজধানীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছে আট হাজার মানুষ। এছাড়া মাহদিয়া, সৌউসে, মোনাস্তির এবং সিদি বৌজিদসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা। রাজধানীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশ। দিনটিকে তিউনিসিয়ার ইতিহাসে ‘কালোদিবস’ আখ্যা দিয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আজ আমরা ইসলামপন্থিদের সরে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছি, যথেষ্ট হয়েছে। আপনারা ক্ষমতায় থাকলে তিউনিসিয়ায় রক্তের বন্যা বইবে।’
উত্তপ্ত এ পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ-অস্থিরতা। বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন এন্নাহদা পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। মেজ্জুনা শহরে এন্নাহদা পার্টির কার্যালয় ভবন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গাফসা শহরে বিক্ষোভকারীরা পার্টির কার্যালয়ে চড়াও হয়। রাজধানীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে পুলিশ। সিদি বৌজিদ এ বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি এবং টিয়ারগ্যাস ছুঁড়েছে। এই শহরটিতে দুই বছর আগে দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আল - আবেদিনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল।