সৃজনশীল প্রকাশনা নিছক ব্যবসা নয়

তরুণ প্রকাশকদের প্রতিষ্ঠান ‘ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ’। মেলায় অংশ নিচ্ছে গত ৯ বছর ধরে। এ প্রকাশনীর অন্যতম স্বত্বাধিকারী আদিত্য অন্তর বলছিলেন, অমর একুশে বইমেলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে। তাই মেলাকে নিয়ে প্রকাশকদেরও বাড়তি দায়িত্ব চলে আসে। মানসম্পন্ন ও বাংলা সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রকাশনাকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রকাশকরা যদি বই প্রকাশে কঠোর হয় তবে বাজে প্রকাশনার ভিড় কমে যাবে। সৃজনশীল প্রকাশনা নিছক ব্যবসা নয়, এর সঙ্গে জাতির মনন গঠনের দায়িত্বও মিশে রয়েছে। তিনি বলেন, যদি লেখক ও প্রকাশক সম্পর্ক স্বচ্ছ হয়, বই প্রকাশের আগেই তাদের মধ্যে চুক্তি হয়, তবে দেশের প্রকাশনা শিল্প একটি ভিত্তি পাবে। বর্তমানে বেশিরভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লেখকদের বই প্রকাশের আগে চুক্তি করে না। লেখকদের প্রাপ্য টাকা ঠিকমত বুঝিয়ে দেয় না। আবার প্রকাশকরাও লেখকদের বই প্রকাশের আগে চুক্তি করতে চান না। সে কারণে প্রকাশনা শিল্প দাঁড়াতে পারছে না। যদি প্রকাশক-লেখক চুক্তির আওতায় আসতেন তবে আজেবাজে বই প্রকাশ করতেন না প্রকাশকরা। লেখকরাও নিজেদের মান বুঝে পান্ডুলিপি নিয়ে আসতেন। আদিত্য অন্তর বলেন, এবারের মেলার ব্যবস্থাপনা ভালো। পাইরেটেড, নেট বই বিক্রি বন্ধ করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। এটা পাঠকদের জন্য যেমন স্বস্তিকর, তেমনি প্রকাশকদের জন্যও সহায়ক হয়েছে। এ বছর ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে ৫৫টির মতো বই প্রকাশ হবে। তবে বরাবরের মতো মননশীল বইয়ের সংখ্যাই বেশি। আমাদের উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে—হাসান আজিজুল হকের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’, সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস ‘কেরানীও দৌড়েছিল’, সেলিনা হোসেনের প্রবন্ধ ‘ভাষা মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতি’, যতীন সরকারের মানবধর্ম মানব মন ও সমাজ বিপ্লব’ প্রভৃতি।