যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
জামায়াতে ইসলামীকে একটি অগণতান্ত্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসনুল হক ইনু বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থেই জামায়াতকে গণতন্ত্রের মাঠ থেকে বিদায় দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জমায়াত হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ চালিয়েছে। এত বছর পরেও দলটি শোধরায়নি। আর এখন তারা দেশ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, সংবিধান, গণতন্ত্র এবং ইসলামের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। এজন্য শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হলেই হবে না, এ বিচারের যারা বিরোধিতা করছে তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির জন্য যেভাবে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও একইভাবে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সশস্ত্র কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোঘণার শামিল। এজন্য তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ইনু বলেন, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী শক্তি এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত হয়ে একটি পরিপূর্ণ সন্ত্রাসবাদী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। জামায়াত কেবল দেশের জন্যই নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্যও বিপদ ও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। মন্ত্রী জানান, জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে মামলা রুজু শুরু হয়েছে এবং এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইনু মনে করেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াত তাদের সেই মনোভাব থেকে ফিরে আসেনি। তারা নতুনভাবে প্রকাশ্যে আক্রমণ শুরু করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সংবিধান, আইন-আদালত ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তাদেরকেও যুদ্ধাপরাধীদের মতো বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। জামায়াতের সাথে যাদের এখনো রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে তাদের প্রতি আহবান জানিয়ে ইনু বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে থাকতে হলে এ অশুভ শক্তির সাথে এখনি সকল সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।