সামরিক আমলের ১৭২ অধ্যাদেশের জনস্বার্থ বিষয় আইনের উদ্যোগ
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের সময় উচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত ১৭২টি অধ্যাদেশের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যুক্ত করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি আইন আলাদাভাবে করার জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত এসব আইন বাতিল করা হলেও এগুলোর দ্বারা সম্পাদিত জনস্বার্থমূলক কাজগুলোকে বৈধতা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কাজকর্মে সমন্বয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব কমিটির সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক সরকারের সময়ে জারি করা বর্তমানে কার্যকর কিছু অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দিতে দু’টি আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোন আইনি ঝামেলা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় দেখছে।
আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে পরিণত করতে সচিবদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ওই সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হবে। সচিব সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঝুলে থাকা অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলাগুলোকে দ্রুততম সময়ে নিস্পত্তির তাগিদ দেয়া হয়। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলাগুলো নিস্পত্তির জন্য সচিবদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে নিস্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের নিয়মিত বৈঠক। প্রতি বছর চার থেকে পাঁচবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বড় কোনো বিষয় হলে এ সভায় প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। সচিবরা সকলেই সরকারের। সরকার যখন যে কর্মসূচি নেয় তা সচিবরা বাস্তবায়ন করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, চলতি অর্থবছরের সাত মাস চলে গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন আগের চেয়ে এ সাত মাসে অনেক কম হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ে এডিপির বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। এডিপির বিভিন্ন প্রকল্প এখন থেকে সচিবদের মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান সচিব সভায় বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক শুমারি শুরু হয়েছে। এ কাজ একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি সকল সচিবের সহযোগিতা চান। এ সময় মন্ত্রী পরিষদ সচিব অর্থনৈতিক শুমারি বাস্তবায়নের জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নিদের্শনা দেন। বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম সভায় বলেন, এবারে ইরি মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। ওই তুলনায় বিদ্যুতের উত্পাদন কম। সারাদেশে একই সঙ্গে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সকল সচিবের সহযোগিতাও চান তিনি। এ বিষয় মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে অনেক বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছে, তারপরও বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জনগণের বিষয়টি বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। এজন্য সকল বিভাগ ও সচিবদের নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন গঠন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, এর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।