নবি-রসূলগণের শিক্ষার মূল কথাগুলো কী কী?
মুহাম্মদ মিজানুর রহমান সহকারি শিক্ষক পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়,পিরোজপুর।
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:২০
প্রথম অধ্যায়
আকাইদ-বিশ্বাস
প্রশ্ন: নবি-রসূলগণের শিক্ষার মূল কথাগুলো কী কী?
উত্তর: পথহারা মানুষকে সুপথে আনার জন্য যুগে যুগে মহান আল্ল¬াহ রাববুল আলামিন অসংখ্য নবি রাসূল প্রেরণ করেছেন। নবি রাসূলগণ মানুষের কাছে যে শিক্ষার কথা বলেছেন তার মূল কথাগুলো হলো-
১। তাওহিদ বা একত্ববাদ : আল্লাহ তা’আলা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। নেই কোনো সমকক্ষ।
২। রিসালাত ও নবুয়্যাত : নবি-রাসূলগণের মাধ্যমে আল্ল¬াহর বাণীসমূহ মানুষের কাছে পৌঁছানো হতো।
৩। দীন: আল্লাহর দেয়া পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।
৪। আখলাক: সুন্দর চরিত্র। এই উত্তম চরিত্র সম্পর্কে মহানবি (স) বলেছেন, উত্তম চরিত্রই হলো সকল কাজের মূল কথা।’ (মুসলিম) তিনি আরো বলেন, ‘উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্যই আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)
৫। শরিআত: জীবন যাপনের বিবরণ, ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ, অবৈধ বা হালাল হারাম এবং জায়েয না জায়েয শিক্ষা সংবলিত বিধি-বিধান।
৬। আখিরাত: আখিরাতের জীবন অনন্ত। মৃত্যুর পরে মানুষ পুনরায় জীবিত হবে এবং পাপ পুণ্যের হিসাব হবে। আখিরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ফরয, আল্লাহ তা’আলা সূরা আল বাকারার দুই নম্বর আয়াতে বলেন, তারা (মুমিনগণ) আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে।’
প্রশ্ন: আখিরাতের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কী কী?
উত্তর: এ পৃথিবীতে যার জন্ম আছে পাশাপাশি তার মৃত্যুও আছে। কুরআন মাজিদে আছে, প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। ‘মৃত্যুর পরের জগতকে আখিরাত বলে। আর এ পরকালীন জীবন অনন্তকালের । এ জীবন সীমাহীন। এ জীবনের কোন শেষ নেই।
আখিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : আখিরাতের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো-
১। কবরে সওয়াল জাওয়াব :
মুনকার ও নাকীর নামক দুই জন ফেরেশতা প্রত্যেক মৃত মানুষকে
আল্ল¬াহর হুকুমে জীবিত করে তিনটি প্রশ্ন করেন। মান রাব্বুকা, মা দীনুকা, মান হাযার রাজুল। যারা দুনিয়াতে আল্লাহ ও নবি রাসূলের নির্দেশ মতো জীবনকে পরিচালিত করেছে তারা এর সঠিক জবাব দিতে পারবে।
২। কবরে আরাম ও আযাব: দুনিয়াতে যারা আল্ল¬াহ ও তাঁর নবি রাসূল এর আদেশ মতো চলেছে তাঁরা কবরে মুনকার ও নাকীর ফেরেশতাদ্বয়ের সাওয়ালের সঠিক জওয়াব দিতে পারবে। তারা তাঁদের জন্য হবে আরাম ও শান্তিময়। পাপী ও অপরাধী যারা এর সঠিক জবাব দিতে পারবে না। কবর তাদের জন্য কঠিন ও ভীষণ শাস্তির স্থান হবে।
৩। মীযান: মীযান মানে পরিমাপক। আমলনামায় যাদের নেককাজ বা সত্ আমল ইবাদত বন্দেগী ওজনে বেশি হবে তারা জন্নাতবাসী হবে। আর যাদের পাপ কাজের ওজন বেশি হবে তারা জাহান্নামী হবে।
৪। কিয়ামত: মানুষ যখন আল্ল¬াহকে ভুলে তাঁর চরম অবাধ্য হয়ে যাবে, আল্ল¬াহর নাম নেয়ার মতো কেউ থাকবে না, সেদিন আল্লাহ এ বিশ্বজগত এবং সবকিছু ধ্বংস করে দিবেন।
৫। হাশর: বিশ্ব জগত ধ্বংস হওয়ার অনেক পর আল্ল¬াহ তা‘আলা সবাইকে তাদের পাপ পুণ্য বিচারের জন্য একটি ময়দানে সমবেত করবেন। সেদিন আল্ল¬াহর সামনে সবাইকে হাজির হতে হবে। শেষ বিচারের এই দিনটিকে বলা হয় ইয়াওমুল হাশর।
৬। জান্নাত ও জাহান্নাম: দুনিয়ায় যারা আল্লাহ ও নবি রাসূলের কথামতো চলে, আল্ল¬াহর ইবাদত বন্দেগি করে, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে, তারা জান্নাতবাসী হবে। সেখানে সুখ-শান্তি ও আরামের সবরকম ব্যবস্থা থাকবে। যারা আল্ল¬াহর নির্দেশ অমান্য করেছে, পাপ কাজ করেছে, শয়তানের অনুসারী হয়েছে, তারা হবে জাহান্নামী । আর এ জাহান্নামে তারা চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে।