ধনী ও দরিদ্রের আয় বৈষম্য কমাতে চীনে ব্যাপক উদ্যোগ

ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য দূরীকরণে চীন সরকার একটি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনার আওতায় ২০১৫ সালের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার মানুষের বেতন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের একটি বড় অংশ সরকার দিতে হবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠনে ব্যয় করা হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে দেশটির ৮০ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে মুক্তি এবং ২০২০ সালের মধ্যে দেশের গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র মানুষের আয় দ্বিগুণ করার অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করা হয়েছে পরিকল্পনায়। চীনে বর্ধমান আয় বৈষম্য দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলছে। এর আগেও এ ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনায় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, সহজেই ক্রয় করা যায় এমন আবাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। চীনের গ্রামীণ এলাকার ১২৮ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্র। দরিদ্র এই মানুষের বাত্সরকি মাথাপিছু আয় ৩৬৮ ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, দরিদ্র মানুষের আয় বাড়লে শুধুমাত্র সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে না বরং অভ্যন্তরীণ ভোগের সামর্থ্য বেড়ে যাবে। যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করবে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো চীনের প্রধান রপ্তানি বাজারে বিভিন্ন কারণে যদি রফতানি হার কমেও দেশের এই শক্তিশালী ভোক্তা শ্রেণি পণ্য ভোগ করার সামর্থ্য রাখবে। রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য কিছু সময় লাগবে। — পলাশ সরকার