ক্রিকেটাররাও পরিবর্তন আনতে পারে

ক্রিকেট মাঠে রাজনৈতিক প্রতিবাদের এতো বড় ছোঁয়া এর আগে কখনো বিশ্ব দেখেনি। জিম্বাবুয়েতে রবার্ট মুগাবের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে দেশটির খেলোয়াড়রা ঠিক ১০ বছর আগে ২০০৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হাতে কালো ব্যান্ড বেঁধে নেমেছিলেন মাঠে। আরও পরিষ্কার করে বললে, তখনকার বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও ফাস্ট বোলার হেনরি ওলোঙ্গা প্রথম করেছিলেন এই কাজ। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়া সবার জানা। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জিম্বাবুয়ে থেকে নির্বাসনেই চলে যেতে হয়েছিল দেশটির সোনালী প্রজন্মের প্রায় সব ক্রিকেটারকে। সেই ঘটনা এখন দূরের অতীত। সেই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এখন ইংল্যান্ডের কোচ। সেই দলের বাকি খেলোয়াড়রা এখন নানা ভূমিকাতে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে ফিরেছেন। তারপরও ১০ বছর পর আলোচনায় এলো সেই ঘটনা। বিবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার খুলে বললেন সেই সময়ের ঘটনা। অ্যান্ডি বলছেন, এমন একটা রাজনৈতিক ব্যাপারে অংশগ্রহণ না করে তিনি পারেননি। যদিও ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ঠিক না বলেই মনে করেন অ্যান্ডি। কিন্তু প্রশ্নটা যখন দেশ ও জনগণের হয়; তখন এই মাত্রাটা ভেঙে যায় বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমরা ছিলাম পেশাদার ক্রিকেটার। স্বাভাবিকভাবে আমাদের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানোর কথা না। কিন্তু আমরা মানুষও তো বটে। ফলে দেশের ঘটনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম না। একটা সময় আমরা মনে করেছিলাম, এখন চুপ করে থাকলে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। জিম্বাবুয়েতে যা ঘটছিল তাতে আমাদের মনে হয়েছিল উঠে দাঁড়িয়ে একটা প্রতিবাদ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, ক্রিকেট দেশের বাইরের কিছু নয়।’ অ্যান্ডি বলছেন, আসলে ওলোঙ্গাই ছিলেন তার এই আন্দোলনে জড়ানোর অনুপ্রেরণা, ‘হেনরি প্রথম একাই হাতে ব্যান্ড বেঁধে নামতে চেয়েছিল। আমি বললাম, অন্তত একজন কালো এবং একজন সাদা ক্রিকেটারকে কাজটা করতে হবে। তাতে একটা ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে সবার কাছে। সেটাই করেছি আমরা।’ এরপর তারা একটি বিবৃতি তৈরি করে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশ্যে সেটি পড়ে শোনান। আজও অ্যান্ডি মনে করেন, সেটি একটি অসাধারণ দলিল ছিল। অ্যান্ডির মতে সেটি ছিল একজন খেলোয়াড় কী করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন তার এক ঘোষণাপত্র। কিন্তু এই কালো ব্যান্ড, এই ঘোষণাপত্র শেষ করে দিয়েছিল তাদের ক্যারিয়ার। তারা জানতেন যে, ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থেকে এই কাজ করলে ক্রিকেট জীবন শেষ হয়ে যাবে। তারপরও কেন এই পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটা বলছিলেন ওলোঙ্গা, ‘আমরা আলোচনা করেছিলাম যে, যে যে এটা করবে, তাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। তারা আর দেশেই থাকতে পারবে না। তারপরও আমরা ক্যারিয়ারের চেয়ে দেশকেই বড় করে দেখেছি।’