পাওনা অর্থ নিয়ে রাজশাহী দলে ক্ষণিকের নাটক

টসের কয়েন হাতে মাঠে দাঁড়িয়ে ম্যাচ রেফারি, পাশে আছেন খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু পনেরো মিনিট পার হওয়ার পরও টসের জন্য মাঠে আসেননি দুরন্ত রাজশাহীর অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ড্রেসিংরুম থেকে অধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবাল গেলেন টস করতে। নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারাসহ দলের সাত বিদেশি ক্রিকেটার তখন ড্রেসিংরুমের সামনে বসে ছিলেন। দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহিমকেও এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। তামিম টস করে যখন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন তখন রাজশাহীর পাঁচ বিদেশিও মাঠে নেমেছেন। কিছুক্ষণের জন্য ঘটা এই নাটক প্রশ্ন জাগায় সবার মনে। রাজশাহীর বিদেশিরা কেন মাঠে নামলেন না? অধিনায়ক হিসেবে কাপুগেদারাই বা কেন টস করতে আসেননি? নেপথ্যের কারণ অবশ্য জানা গেল খেলাটি শুরুর পর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম ২৫ ভাগ টাকা না পাওয়ায় রাজশাহীর বিদেশিরা খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। রাজশাহীর চেয়ারম্যান মোহন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এ ব্যাপারে দায়ী করে বলেন, ‘আমরা কিস্তির ৫০ ভাগ টাকা বিসিবিকে দেয়ার পরও খেলোয়াড়রা কেন টাকা পায়নি তা আমার জানা নেই। টাকা পায়নি বলে বিদেশিরাও খেলতে নামতে চাইছিলেন না। অবশেষে কেন মাঠে নেমেছে সেটাও আমি জানি না। কিন্তু টাকা পায়নি বলে মাঠে তাদের পারফর্মেন্সও বাজে হচ্ছে। আপনারা স্বচক্ষে দেখুন, কি বাজে ব্যাটিং করছে তারা’। রাজশাহীর চেয়ারম্যান যখন এই কথা বলছিলেন, সেসময় স্কোরবোর্ডে রাজশাহীর সংগ্রহ ৬৪/৬। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৩৮ রান তুলেছে দলটি। রাজশাহী টাকা দেয়ার পরও বিদেশিরা কেন তা পায়নি এর উত্তরে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলর চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা কলকাতা থেকে ফোনে বললেন, ‘ফ্রাঞ্চাইজিরা আমাদেরকে টাকা দিয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে। আমরা ৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, রেমিটেন্স হতে ছয় থেকে সাতদিন সময় লাগবে। তাই বিদেশিরা টাকা পায়নি। ফ্রাঞ্চাইজিরা টাকা দিতে দেরি করবে, আবার আমাদের দোষারূপ করবে সেটা তো হতে পারে না। ফ্রাঞ্চাইজিরা একেক সময় একেক কথা বলছে। আমরা তাদেরকে বলেছি, এভাবে কথা না বলে আমাদের সামনে বসে যেন কথাগুলো বলে’। জানা গেছে, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের হস্তক্ষেপে বিদেশিরা শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে। দফায় দফায় তারিখ পরিবর্তন করেও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ফ্রাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে খেলোয়াড়দের পারিশ্রামিক বুঝে পায়নি। অবশেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ ফ্রাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের কিস্তির ২৫ ভাগ টাকা জমা দেয়। বাকি দুই ফ্রাঞ্চাইজি (সিলেট ও চিটাগাং) এর দুইদিন পর টাকা দেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে। খেলোয়াড়রা সময়মত টাকা না পেলে এর প্রায়শ্চিত্ত তো ফ্রাঞ্চাইজিকেই ভোগ করতে হবে- বললেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান। বিপিএলের প্রথম আসরে খেলোয়াড়দের পাওনা নিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিরা বিতর্ক সৃষ্টি করলেও বিসিবি এবার নিজেরা খেলোয়াড়দের বকেয়াসহ বর্তমান পারিশ্রামিকের দায়ভার নিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুটি ফ্রাঞ্চাইজি বিসিবির নিয়ম তোয়াক্কা না করে খেলোয়াড়দের হাতে হাতে টাকা পরিশোধ করেছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হলে এটার একটা বিহীত করতে হবে। আমরা ফ্রাঞ্চাইজির সাথে বসে কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিব। ফ্রাঞ্চাইজিদের বিরুদ্ধে কঠোর না হলে আমাদেরকে সমালোচনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বার বার’।