চুলপড়া সমস্যা-২৪

চুলপড়া সমস্যা বা হেয়ার লস নিয়ে যত জানতে চেষ্টা করছি ততই মনে হচ্ছে আসলে কিছুই জানা হলোনা। আমাদের এই না জানার পিছনে, না শেখার পিছনে বড় কারণ হচ্ছে আমাদের ব্যবসা। ডাক্তারী ব্যবসা বললে অনেকে ক্ষিপ্ত হন। তাই ডাক্তারী প্রাকটিস বলাই ভালো। আমরা যদি ডার্মাটোলজির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাবস্পেশালিটি গড়ে তুলতে পারি এবং চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের মনযোগ বাড়ে তবে আমি বিশ্বাস করি একদিন বহু ডার্মাটোলজিষ্ট শুধু হেয়ার লস ট্রিটমেন্টে উত্সাহী হবেন। আজকের বিশ্বে চুল শুধু মামুলি একটি বিষয় নয়। চুল এখন বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নাম করণ হয়েছে হেয়ার সায়েন্স। যেমন: ধরুন আমরা রোগীদের কাছ থেকে শুনে থাকি। আমার চুল পড়ে যাচ্ছে, চুল পাতলা হয়ে গেছে। প্রতিদিন অসংখ্য চুলপড়ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। বাস্তবে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের মাথায় ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ হেয়ার ফলিকিউল থাকে এবং প্রতি ১ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তনে ২০০ থেকে ৪০০ টি চুল থাকাকে চুলের স্বাভাবিক ঘনত্ব বলা হয়। সাধারণত আমরা তিন ধরণের চুল দেখতে পাই। যেমন: ভেলাস হেয়ার বা ছোট ও নন পিগমেন্টেড হেয়ার যার ডায়ামিটার ০.০৩ মিলিমিটারের কম। টার্মিনাল হেয়ার এটা হবে কোর্স এবং ডায়ামিটার হবে ০.০৬ মিলি এবং চুল লম্বা হতে পারে। এছাড়া রয়েছে লেনুগা হেয়ার যা জন্মের পর ঝরে পড়ে। চুলের গঠনের ক্ষেত্রেও ক্যারাটিন নামের এক ধরণের প্রোটিন ভূমিকা রাখে। এছাড়া হেয়ার গঠনে পানি, ফ্যাট, জিংক ও বায়োটিনের মত ট্রেস এলিমেন্টের ও সামান্য ভূমিকা রয়েছে। যেমন চুলের আগা ফেটে যাওয়া সমস্যা স্প্লিট এন্ডস বা ট্রাইকোপটোলসিস, অথবা চুলের কান্ড বা শ্যাফট খসখসে হওয়া বা ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি। চুলের মসৃণতা নষ্ট হওয়ার কারণও জানতে হবে। কিভাবে চুলের পরিচর্যা করবেন, কি ধরণের শ্যাম্পু করবেন ইত্যাদিও জানা দরকার। অর্থাত্ আমি যা বলতে চাচ্ছি তাহলো চুলের বিজ্ঞান সম্মতভাবে চিকিত্সা ও পরিচর্যা ও যত্ন নিতে হলে অবশ্যই আমাদের জানতে হবে হেয়ার সায়েন্স ও পরিচর্যার খুটি নাটি বিষয়। আর অপচিকিত্সা থেকে রোগীদের রক্ষা করতে হলে আমরা যারা চিকিত্সা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত তাদেরও বিজ্ঞান সম্মতভাবে চুলের যত্নে সকলকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোগীদের যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শুধু চিকিত্সা নয়, রোগীদের চুলের পরিচর্যায় উত্সাহিত করতে। তাহলে অবশ্যই রোগীরা চুলের আধুনিক চিকিত্সার দিকে ঝুকতে শুরু করবে। এছাড়া চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে সামান্য যেসব ওষুধ আছে তার ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমি সব সময় বলে আসছি চুলপড়া কোন রোগ নয়, কেবলমাত্র সমস্যা অনুযায়ী এর চিকিত্সা দিতে হবে। চুল পড়ার কথা বললেই আমরা বুঝে অথবা না বুঝে একগাদা ওষুধ ধরিয়ে দেই। আমরা যদি বাইরের জগতে চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা সম্বন্ধে যথেষ্ট জানতাম তাহলে অপচিসিত্সা ও অপ্রয়োজনীয় চিকিত্সার হাত থেকে রোগীরা রক্ষা পেতো।